দেশে হামের সংক্রমণ এখন রীতিমতো এক বিভীষিকার নাম। গত মার্চ মাস থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম এবং এর পার্শ্ববর্তী জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৮২ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ইতিমধ্যে ৯,২০০ জনেরও বেশি মানুষের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের অস্তিত্ব মিলেছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই মড়কের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে শিশুরা। মৃতদের মধ্যে ৮০ শতাংশেরই বয়স ৫ বছরের নিচে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা টিকার ডোজ সম্পন্ন করেনি, তারাই এই মরণব্যাধির সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছে।
চট্টগ্রামের অবস্থা এখন সবচেয়ে উদ্বেগজনক। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিত্র আরও ভয়াবহ। হাসপাতাল পরিচালক জানিয়েছেন, গত মার্চ থেকে শুধুমাত্র তাদের হাসপাতালেই হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ১,৫৮৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২১ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।
ইউনূস ও নূরজাহানের বিচারের দাবিতে প্রতীকী প্রতিবাদ
এই গণমৃত্যুর জন্য সরাসরি নীতি-নির্ধারকদের দায়ী করে ১৮ মে, সোমবার সকালের দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এক নজিরবিহীন প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
প্রতিবাদকারীদের দাবি, ইউনিসেফের আগাম সতর্কতা সত্ত্বেও প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান অবহেলা করে যথাযথ সময়ে টিকার ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
“নিষ্পাপ শিশুদের হত্যার দায়ে ইউনূস ও নূরজাহানের বিচার চাই”—এমন স্লোগানে উত্তাল ছিল প্রেস ক্লাব চত্বর।
বক্তারা অভিযোগ করেন, টিকা আমদানিতে গাফিলতি এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় চরম উদাসীনতাই আজ হাজার হাজার শিশুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।






