মাফিকুল ইসলাম, পার্বতীপুর,(দিনাজপুর) প্রতিনিধি :-
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার আলী শাহের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে উপজেলার ৫৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষা কর্মকর্তা প্রভাব খাটিয়ে নিজেকে সাবেক হুইপের ভাই পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দাপট দেখাতেন এবং এমপিওভুক্তি ও প্রশাসনিক ফাইল প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে অর্থ দাবি করতেন। টাকা ছাড়া কোনো ফাইল অগ্রসর করা হতো না বলেও অভিযোগ করা হয়।
শিক্ষক নেতাদের দাবি, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে শিক্ষা ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্যসহ একাধিক অভিযোগে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
বীরগঞ্জ জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, ফাইল প্রক্রিয়াকরণ ও সরকারি বরাদ্দের কাজেও অর্থ আদায়ের চাপ দেওয়া হতো। এতে শিক্ষক ও কর্মচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি বীরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আহসান হাবীব বলেন, “তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। আমরা দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার আলী শাহ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন, তবে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
শিক্ষক নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।