স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় সড়কে নেমেছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। তারা বলছেন নিয়োগপত্র না দেয়া পর্যন্ত সড়ক ছাড়বেন না। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে তাদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। এর আগে সকাল থেকে নিয়োগপ্রত্যাশীরা আন্দোলন শুরু করেন। এসময় নিজেদের শিক্ষক দাবি করে আন্দোলনকারী বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা। সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভাষ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। ফল প্রকাশের পর নিয়ম অনুযায়ী তারা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ ও ডোপ টেস্ট রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দেন। কিন্তু আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নিয়োগপত্র পাননি তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়োগের আশায় অনেক প্রার্থী তাদের আগের বেসরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে নিয়োগ ঝুলে থাকায় তারা পরিবারসহ চরম আর্থিক ও মানসিক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। প্রার্থীদের অভিযোগ, গত ২২ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এক ধরনের দোদুল্যমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
আন্দোলনকারীরা জানান, গত ১ মার্চের মধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সব মূল সনদ যাচাই ও পরিচিতি সম্পন্ন হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না দেওয়াকে তারা কর্তৃপক্ষের ‘প্রহসন’ হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন করে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অপরদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে ব্যাপক জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিলো। জালিয়াতি ও অনিয়মের ব্যাপকতা বেশি থাকায় এ নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা। তারা ফের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে পরীক্ষা নেয়ার দাবি তুলেছিলেন। এ দাবি আদায়ে একদল চাকরিপ্রার্থী ঢাকায় অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঘেরাও করেছিলেন।
তবে জালিয়াতি চক্র সক্রিয় থাকলেও পরীক্ষা সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছিলো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। যারা জালিয়াতির চেষ্টা করেছেন, তারাই ধরা পড়েছেন বলেও জানায় অধিদপ্তর।






