জোর করে পদচ্যুত করা হয় শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষকে
প্রতিবেদকের নাম :
-
আপডেটের সময় :
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
-
৫৬
সময় দর্শন
প্রতীকী ছবি
২০২৩ সালে ঢাকার ধামরাই উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয় সূয়াপুর নান্নার স্কুল অ্যান্ড কলেজ। একই বছর উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান নির্বাচিত হন ওই কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার। অথচ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরই এই অধ্যক্ষকেই জোর করে পদত্যাগ করানো হয়। অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘২০২১ সালের ১৮ আগস্ট আমার যোগদানের মাত্র তিন বছরের মধ্যে জেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পায়। এ জন্য আমাকে বেশকিছু পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। ক্লাসরুমে কড়াকড়ির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে নিরুৎসাহ করেছি। নিম্নমানের পাঠ্যবই বাদ দিয়েছি। বিভিন্ন দিবস ও অনুষ্ঠানের নামে অযাচিত বিল ও সম্মানি নেওয়া বাদ দিয়েছি। এতে কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক আমার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। সরকার পতনের পর কয়েকজন শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে ছাত্রদের উসকে দেয়। এর মধ্যে ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক সাজ্জাদ হোসাইন, সাইফুল ইসলাম খান, ফজলুল হক খান এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমগীর। ১৫ আগস্ট গভর্নিং বডির সভাপতি আসাদুজ্জামান খান, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টার স্বামী, তিনি লোক পাঠিয়ে আমাকে পদত্যাগপত্রে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ান। এরপর আমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বপদে বহাল করতে রায় দেন আদালত। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি যোগ দিতে পারিনি।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল টিটো হোসেন, ইসরাফিল আহমেদ, নাজমুল হাসান, মৃদুল, জান্নাতি আক্তার, পারমিতা প্রমুখ। জানতে চাইলে টিটো বলেন, ‘মবের কারণে আমার জীবনটাই পিছিয়ে গেছে। আমি আর এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না।’ মৃদুল নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনে নামানো হয়েছে। কমিটি ও কয়েকজন শিক্ষক মিলে আমাদের উসকানি দেন। এখন বুঝতে পারছি আমরা ভুল করেছি।’ একাদশ শ্রেণির ছাত্র ইসরাফিল আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষকদের উসকানিতে আমরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলাম। পরবর্তী সময়ে ভুল বুঝতে পেরে প্রতিবাদ করায় আমাকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়নি ওই স্যারেরা।’
প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি ড. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান সেলিম জানিয়েছেন, কিছু কতিপয় স্বার্থান্বেষী শিক্ষক ও বহিরাগতরা অবৈধ স্বার্থ আদায়ের জন্য শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে মবের সৃষ্টি করে। শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার ভয়ভীতি দেখিয়ে অধ্যক্ষকে পদত্যাগে বাধ্য করানো হয়।
জানতে চাইলে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘আগের অধ্যক্ষ আসলে শিক্ষক হওয়ারই যোগ্য নন। বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন; পরে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাকে জোর করা হয়নি।’ পদত্যাগ করানো শিক্ষককে যোগদানে বাধা দিলে তারও বেতন বন্ধ করা হবে—মাউশির এমন নির্দেশনার প্রসঙ্গ তুললে বর্তমান অধ্যক্ষ বলেন, ‘এখন যেহেতু কমিটি নেই, তাই মাউশি অধিদপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যদি আগের অধ্যক্ষকে যোগদান করতে বলেন, তাতে আমরা বাধা দিতে পারি না।’
Please Share This Post in Your Social Media
এই বিভাগের আরও খবর