নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। তুলনামূলক কিছুটা কম দামে পণ্য কিনতে খুলনায় ওএমএসের দোকানে ক্রেতার ভিড় বাড়ছে। মধ্যবিত্তরাও ওই ভিড়ে যুক্ত হচ্ছেন। ফলে ওএমএস দোকানে ক্রেতার লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। কিন্তু শুধু নগরীর ৩১টি ওয়ার্ড এলাকায় রয়েছে এ কার্যক্রম। তৃণমূল পর্যায়ে না থাকায় গ্রামের মানুষ ছুটছেন শহরে। ফলে ওএমএস দোকানে ভিড় বাড়ছেই। কিছুটা কম দামে পণ্য কিনতে ক্রেতাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। মহানগরীর ২১নং ওয়ার্ডের মেসার্স কনিকা এন্টারপ্রাইজ পয়েন্টে ওএমএস চাল নিতে আসা ৫৫ বছর বয়সী ফিরোজা বেগম জানান, তার বাড়ি রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে। তিনি একটু সাশ্রয়ীমূল্যে ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা নিতে সেই ভোর বেলায় নদী পার হয়ে এসেছেন। এই চাল নিতে ২৬নং ওয়ার্ডের ডিলার পয়েন্ট মেসার্স মঞ্জুয়ারা এন্টারপ্রাইজে এসেছেন বটিয়াঘাটা উপজেলার সাচিবুনিয়ার এলাকার তাসলিমা বেগম, শান্তি বালাসহ তিন শতাধিক মানুষ।
সরেজমিন দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি পয়েন্টে ২০০ জনের জন্য এক টন চাল এবং এক টন আটা বরাদ্দ হয়। কিন্তু প্রতিটি পয়েন্টে ভোক্তা হয় চারশ থেকে পাঁচশরও বেশি। এ জন্যে ডিলাররা অনেক সময় সবাইকে চাল-আটা দিতে পারেন না। ফেরত যেতে হয়ে অনেককে। খালিশপুর নিউমার্কেট বাজার এলাকার রিকশাচালক রহমতউল্লাহ (৫৩) জানান, শুধু শহরের নয়, গ্রাম থেকেও এখানে ওএমএসের চাল-আটা নিতে আসছে মানুষ। বিশেষ করে, গত এক মাস নতুন নতুন মুখ আসছে। এখন গ্রাম পর্যায়েও খোলাবাজারে চাল-আটা বিক্রি করা দরকার। তিনি জানান, ওএমএসে চাল ৩০ টাকা এবং আটা ২৪ টাকা দরে কেনা যায়। দোকানে চাল ন্যূনতম ৫০-৫৫ টাকা কেজি এবং আটা ৪৫ টাকা কেজিতে কিনতে হয়। খুলনা মহানগরীর ১১নং ওয়ার্ডের খালিশপুর নিউমার্কেট বাজার এলাকার খাদ্য অধিদফতরের ডিলার মো. রাসেল ভুলু বলেন, ‘মানুষ অনেক সকালে এসে দাঁড়িয়ে থাকে। আমরা ২০০ জনকে দিতে পারি, কিন্তু মানুষ আসে তিনশর বেশি। আমরা যতটুকু বরাদ্দ পাই, ততটুকু লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের দিয়ে দিই। নগরীর ৮নং ওয়ার্ডের ডিলার চান মিয়া সেলিম জানান, এক মাস ধরে অনেক নতুন মুখের মানুষ আসছে। এ সব লোকজন ভৈরব নদের ওপার দিঘলিয়া ও তেরোখাদা, রূপসা এলাকা থেকে আসছে। এর আগে তারা কখনও চালের জন্য শহরে আসেনি। নগরীর ১৭নং ওয়ার্ডের সোনাডাঙ্গা বাস স্ট্যান্ড এলাকার হাফিজনগরের ওএমএস ডিলার পয়েন্ট মেসার্স সুলতানা এন্টারপ্রাইজে এসেছেন চল্লিশোর্ধ্ব শাহজাহান আলী। কাপড়ের ফেরি করেন। বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি জানান, এখন বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছেন দীর্ঘ লাইনে। এর আগে কোনোদিন দাঁড়াতে হয়নি। নগরীর দৌলতপুর, খানজাহান আলী, খালিশপুর, সোনাডাঙ্গাসহ জনবহুল এলাকায় ওএমএস ডিলার শপের সামনে দেখা গেছে দীর্ঘ সারি। নারী, পুরুষের পাশাপাশি শিশুরাও দাঁড়াচ্ছে লাইনে। শেখপাড়া বাজার এলাকার ডিলার মেসার্স সালাম এন্টারপ্রাইজে ওএমএসের চালের জন্য লাইনে দাঁড়ানো আফরোজা বলেন, ‘ভোর ৫টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি। ৯টার দিকে চাল বিক্রি শুরু হয়। পাঁচ কেজি চাল ও আটার জন্য এক-দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়। এরপরও কিনতে পারলে খুশি।’ ৩০নং ওয়ার্ডের টুটপাড়া এলাকার ডিলার মো. স্বপন বলেন, ‘ক্রেতার চাপ বেশি থাকায় চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছি। বিক্রির জন্য যে চাল ও আটা বরাদ্দ পেয়েছি, তা উপস্থিত মানুষের তুলনায় খুব কম।’ খুলনা মহানগরীর ওএমএস মনিটরিং কর্মকর্তা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুজ্জামান জানান, খুলনা মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ড এলাকায় ৩১ জন ডিলারের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে ডিলার প্রতি এক টন চাল ও এক টন আটা বিক্রি করা হচ্ছে। চাহিদা বেড়েছে। ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ওএমএসের পয়েন্টগুলোতে ভিড় বেড়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী চাল-আটা বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ডিলারদের। ডিলার পয়েন্টে খাদ্য বিভাগের কর্মীরাও কাজ করছেন। এরই মধ্যে দায়িত্বে অবহেলার কারণে দায়িত্বরত কয়েকজন খাদ্য পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’