1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে বৈষম্যবিরোধী, ছাত্রদল ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখি সংঘর্ষ: ওসিসহ আহত ১০ মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের প্রবণতা সংস্কৃতির ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ: উদীচী ধোঁয়াশায় বিজিবি-বিএসএফ: গুলিবিদ্ধ সাদ্দামের লাশ ওপারেই, ফিরবে কবে? তেরখাদায় সরকারি বরাদ্দের ব্রিজ নির্মাণে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ নেত্রকোণায় দুই হিন্দু আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন ওসিসহ আহত ২০, বৈষম্যবিরোধীদের সঙ্গে পুলিশ-ছাত্রদলের সংঘর্ষ জ্বালানি খাত নিয়ে দুঃসংবাদ শোনালেন অর্থমন্ত্রী হামের উপসর্গে একদিনে ১২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৭৪ এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার, গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু

এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, দ্রুত সমাধান চায় সাধারণ মানুষ

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৭৮ সময় দর্শন
এলপিজি সিলিন্ডার (ছবি: সংগৃহীত)

 

রফিক মোহাম্মদ:

এলপিজি (LPG) গ্যাসের দাম বৃদ্ধি বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়। রান্নার খরচের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশ আমদানিকৃত এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। সৌদি আরামকো-র নির্ধারিত কন্টাক্ট প্রাইস (CP) অনুযায়ী প্রতি মাসে বাংলাদেশে দাম সমন্বয় করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দেশেও তার প্রভাব পড়ে। যেহেতু এলপিজি ডলারে কিনতে হয়, তাই দেশীয় বাজারে ডলারের দাম বাড়লে আমদানিকারকদের খরচ বেড়ে যায়, যা সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বর্তায়। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে জাহাজ ভাড়া ও স্থানীয় পর্যায়ে সিলিন্ডার পরিবহনের খরচও বেড়ে যায়। রান্নার গ্যাস একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এর দাম বাড়লে মাসিক বাজেটে টান পড়ে, ফলে অন্যান্য জরুরি খরচ (যেমন শিক্ষা বা স্বাস্থ্য) কমিয়ে দিতে হয়। ছোট-বড় সব রেস্টুরেন্ট এলপিজি ব্যবহার করে। গ্যাসের দাম বাড়লে বাইরের খাবারের দামও বেড়ে যায়। দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেলে অনেক নিম্নবিত্ত পরিবার আবার অস্বাস্থ্যকর খড়ি বা লাকড়ির চুলায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়, যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বাংলাদেশে ২০২৬ সালের শুরুতেই এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং সেই সাথে বাজারে কৃত্রিম সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করার পর থেকেই দেশজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

​বিইআরসি জানুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১,৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। অথচ মাঠ পর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন:
​নির্ধারিত দাম: ১,৩০৬ টাকা (১২ কেজি সিলিন্ডার)। ​প্রকৃত বাজারদর: রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই গ্যাস ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ টাকা, এমনকি কিছু এলাকায় ২,০০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ​অটোগ্যাস: যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়িয়ে প্রতি লিটার ৫৯.৮০ টাকা করা হয়েছে।

​তীব্র শীতে পাইপলাইনের গ্যাস সংকটের কারণে এলপিজির চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। এই সুযোগে অসাধু সিন্ডিকেট বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে (সৌদি আরামকো CP) প্রোপেন ও বিউটেনের দাম বৃদ্ধি এবং ডলার সংকটের কারণে আমদানিকারকরা এলপিজির দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। বিইআরসি দাম নির্ধারণ করে দিলেও মাঠ পর্যায়ে সেটি কার্যকর করার মতো কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি না থাকায় খুচরা বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম রাখছেন। রান্নার খরচে নাভিশ্বাস: নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো মাসের বাজেটের বড় একটা অংশ শুধু গ্যাসের পেছনে খরচ করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক পরিবার বাড়তি খরচ বাঁচাতে মাটির চুলা বা অস্বাস্থ্যকর জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলোতে রান্নার খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাবারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের পকেটে টান দিচ্ছে। এমনকি রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি সংকট না কাটলে ধর্মঘটের হুমকিও দিয়েছে। অটোগ্যাসের দাম বাড়ায় রিকশা ও অটোভাড়াতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ​

যদি দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না করা হয় এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে শীতের বাকি দিনগুলোতে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনকে যৌথভাবে কঠোর অভিযানে নামার দাবি সাধারণ মানুষের।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host