চব্বিশের রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতনের পর একটি অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট ও বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের ফলে বাংলাদেশ এই মুহূর্তে এক জটিল অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি। নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমূল্য, বেকারত্ব, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়বহুলতা এবং শিক্ষার মান নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ—এসব সংকট মিলিয়ে মানুষের জীবনে অনিশ্চয়তা গভীরতর হয়েছে। দেড় যুগ ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উন্নয়ন ও অগ্রগতির নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেগুলোর খুব কমই বাস্তবে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। তাই বর্তমানে প্রয়োজন এমন রাজনীতি, যা কথার চেয়ে কাজে, স্লোগানের চেয়ে সমাধানে, প্রতিশ্রুতির চেয়ে প্রস্তুত নীতিতে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশ এখন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার পথে অগ্রসর হচ্ছে। এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষিত হয়েছে। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। এ প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিজেদের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নতুনভাবে সাজিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি এমন একটি নীতিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছে, যা আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে পারলে তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে জানিয়েছে বিএনপি। বিএনপি মনে করে, রাজনীতি যদি জনগণের জীবনমান উন্নত করার উপযোগী না হয়, তবে তা শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা হয়ে থাকে। তাই বিএনপি প্রস্তুত করেছে আটটি খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনাÑফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং ধর্মীয় নেতাদের উন্নয়ন সেবা—যার প্রতিটিই মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। বর্তমান মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্ধিত মূল্যস্ফীতি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে টিকে থাকার লড়াইয়ে ঠেলে দিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিএনপি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর সরাসরি উদ্যোগ হিসেবে প্রতিটি পরিবারে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২০০০-২৫০০ টাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও জরুরি পণ্য সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যাবে। এর ফলে পরিবারগুলোর দৈনন্দিন ব্যয় কমবে, পাশাপাশি নারীদের সঞ্চয় ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে; যা নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষার একটি স্থায়ী পথ উন্মুক্ত করবে।