জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ / জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান
স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক »
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংসদ সদস্যদের সুরক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সম্পূরক প্রশ্নোত্তরের সময় বিরোধী দলের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বিতর্কিত ও শ্লেষাত্মক মন্তব্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসেই তুমুল হট্টগোল ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্যকে ‘শাহবাগ’ ও ‘পল্টনের বক্তৃতা’র সাথে তুলনা করার পর সংসদ কক্ষে এক অভূতপূর্ব বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলের সদস্যদের তীব্র প্রতিবাদ, মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার, নিঃশর্ত দুঃখ প্রকাশ এবং অসংসদীয় মন্তব্য হিসেবে তা সংসদীয় কার্যবিবরণী (রেকর্ড) থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবিতে বারবার স্থবির হয়ে পড়ে অধিবেশন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) বারবার হস্তক্ষেপ করেন। তিনি উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যদের সংসদীয় রীতিনীতি ও কার্যপ্রণালী বিধি মেনে চলার কঠোর নির্দেশ দেন। তবে উভয় পক্ষের উত্তপ্ত বাগি¦তণ্ডা ও বিরোধী দলের অব্যাহত হইচইয়ের মুখে স্পিকার একপর্যায়ে সংসদের ভবিষ্যৎ, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা এবং সংসদ সদস্যদের আচরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ও সংসদ সদস্যদের অভিযোগ
অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে প্রশ্নোত্তর পর্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দিনে-দুপুরে অস্ত্র ব্যবহার করে ছিনতাই ও রাহাজানির মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে। সাধারণ নাগরিকের সুরক্ষার অভাব পাশাপাশি নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। ড. মাসুদ অভিযোগ করেন, সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হলেও মূল আসামিদের পুলিশ গ্রেফতার করছে না; বরং এর বিপরীত চিত্রে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে গণহারে গ্রেফতার করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে ছিনতাই এবং জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা বিধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান তিনি।
একই প্রসঙ্গে সম্পূরক প্রশ্ন নিয়ে দাঁড়ান কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সম্প্রতি গান-বাজনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ সংসদে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই একসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন; কিন্তু আজ সেই জেলায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও বিনোদন বন্ধের মুখোমুখি।’