1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩১ অপরাহ্ন

সঞ্চয় বাড়ানোর জন্য মাসের শুরুতেই করুন এই ৭ কাজ

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭ সময় দর্শন

বেতন হাতে আসার পর মনে হয় পকেটে বেশ ভালোই টাকা আছে। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই শুরু হয় হিসাব মেলানোর পালা। বাসাভাড়া, বাজার, বিল ও যাতায়াতের পাশাপাশি অনলাইন শপিং বা ছোটখাটো দৈনন্দিন খরচ মিলিয়ে মাসের মাঝামাঝি আসতেই পকেটে টান পড়তে শুরু করে।
আসলে সমস্যাটি সবসময় কম আয়ের কারণে হয় না; বরং টাকা হাতে আসার পর তা কীভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর করে মাসের শেষটা কেমন কাটবে। তাই বেতন পাওয়ার পরপরই কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো এবং নিয়মিত সঞ্চয় করা অনেক সহজ হতে পারে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক বেতন পাওয়ার পর টাকা সামলানোর কার্যকরী সাতটি কৌশল।
বেতন পাওয়া মাত্রই আগে সঞ্চয় করুন
সাধারণত আমরা ভাবি, মাসের সব খরচ মিটিয়ে যা বাঁচবে, সেটাই সঞ্চয় করব। কিন্তু বাস্তবে মাসের শেষে হাতে কোনো টাকাই থাকে না। তাই উল্টো পদ্ধতিটি কাজে লাগান। বেতন অ্যাকাউন্টে আসার পরই আয়ের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ আলাদা কোনো অ্যাকাউন্টে সরিয়ে রাখুন, যেখান থেকে দৈনন্দিন খরচ করা হয় না। শুরুতে অঙ্ক কম হলেও নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলাই আসল কথা।
নির্দিষ্ট খরচের টাকা আগেই আলাদা করে রাখুন
বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, ঋণের কিস্তি কিংবা সন্তানের স্কুল ফি-র মতো কিছু নির্দিষ্ট খরচ প্রতি মাসেই করতে হয়। বেতন পাওয়ার পরই এসব খরচের টাকা আলাদা করে ফেলুন। কোন তারিখে কোন বিল দিতে হবে তার একটি ছোট তালিকা তৈরি করে রাখলে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হবে না।
পুরো মাসের টাকা একসঙ্গে খরচ করবেন না
মাসের শুরুতে হাতে বেশি টাকা থাকায় প্রথম সপ্তাহেই অতিরিক্ত খরচ করে ফেলেন অনেকেই। এটি এড়াতে প্রয়োজনীয় খরচ ও সঞ্চয় বাদ দিয়ে বাকি টাকাকে চার সপ্তাহে ভাগ করে নিন। অর্থাৎ, প্রতি সপ্তাহে কত টাকা খরচ করবেন, তার একটি নির্দিষ্ট সীমা (Budget) ঠিক করুন। কোনো সপ্তাহে কম খরচ হলে সেই টাকা অতিরিক্ত খরচে ব্যবহার না করে সঞ্চয়ে যোগ করুন।
চোখের আড়ালে থাকা খরচগুলো বন্ধ করুন
বড় খরচের হিসাব রাখা সহজ হলেও ছোট ও নিয়মিত খরচ অনেক সময় নজর এড়ায়। যেমন—এমন কোনো অনলাইন সাবস্ক্রিপশন বা জিমের সদস্যপদ, যা আপনি এখন আর ব্যবহার করেন না অথচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কেটে যাচ্ছে। মাসে অন্তত একবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা কার্ডের লেনদেন পর্যালোচনা করে এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় খরচগুলো বন্ধ করুন।
অনলাইনে কিছু কিনতে চাইলে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন
অনলাইনে পছন্দের পণ্য দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে অর্ডার করার প্রবণতা অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়িয়ে দেয়। তাই কোনো কিছু কিনতে ইচ্ছে হলে অন্তত ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর নিজেকে প্রশ্ন করুন—জিনিসটি কি সত্যিই খুব জরুরি, নাকি কেবল ছাড় দেখে কেনার ইচ্ছে হয়েছিল? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাবে, একদিন পর কেনার আগ্রহ আর আগের মতো নেই।
প্রতি মাসে অন্তত একটি অপ্রয়োজনীয় খরচ কমান
সব খরচ একসঙ্গে বন্ধ করতে গেলে নিয়ম ধরে রাখা কঠিন হয়। এর চেয়ে প্রতি মাসে যেকোনো একটি অতিরিক্ত অভ্যাস চিহ্নিত করে তা কমানোর চেষ্টা করুন। যেমন—প্রতিদিন বাইরে থেকে কফি খাওয়া, নিয়মিত অনলাইনে খাবার অর্ডার করা কিংবা অল্প দূরত্বে রিকশার বদলে হেঁটে যাতায়াত করা। ছোট মনে হলেও বছরের শেষে এই সঞ্চয়ের পরিমাণ বেশ বড় হয়।
মাসের শেষের ৫-৬ দিনের জন্য আলাদা টাকা রাখুন
মাসের শেষ দিনগুলোতে হঠাৎ কোনো জরুরি প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। তাই বেতন পাওয়ার পরই মাসের শেষ কয়েক দিনের জন্য একটি ছোট অঙ্ক আলাদা করে রাখুন। এই টাকা মূল সঞ্চয় বা শপিংয়ের জন্য নয়; বরং জরুরি ওষুধ, যাতায়াত বা অপ্রত্যাশিত কোনো খরচের জন্য ব্যবহার করুন।
শেষ কথা
সঞ্চয় মানে শুধু ব্যাংকে টাকা জমিয়ে রাখা নয়, বরং যেকোনো বিপদে অন্যের ওপর নির্ভরশীল না থেকে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই সঞ্চয়কে মাসের শেষে বেঁচে যাওয়া টাকা না ভেবে, মাসের শুরুতেই আপনার আর্থিক পরিকল্পনার মূল অংশ বানিয়ে নিন।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host