শরিফ আকন্দ ওয়াফি, স্পোর্টস রিপোর্টার
কারাতে শেখার কোনও নির্দিষ্ট বয়স নেই। যে কোনও বয়সের মানুষই ক্যারাটে শিখতে পারেন। শুধু আত্মরক্ষার জন্য নয়। সুস্থ থাকতেও কারাতে শেখা যেতে পারে। কারণ কারাতে শরীর এবং মনে অনেক সুফল দেয়। যা আমাদের জীবনবোধকে অনেকটা বদলে দিতে পারে।
আসুন দেখে নিই কোন কোন দিকে সুফল রয়েছে
সক্রিয়তা ও তৎপরতা বাড়ায় :
কারাতে শরীরকে সতেজ ও ঝরঝরে করে। তাতে শরীর সুস্থ ও চাঙ্গা থাকে। ফলে যে কোনও রকম কাজ করার ক্ষেত্রে উৎসাহ পাওয়া যায় বেশি। কাজ করার জন্য এনার্জিও বেশি থাকে। যাঁরা ক্যারাটে শেখেন বা করেন তাঁদের মধ্যে কোন কাজে এগিয়ে যাওয়ার আগ্রহ অন্যদের থেকে অনেক বেশি থাকে। কাজের তৎপরতাও বেশি হয়।
নমনীয়তা ও সহনশীলতা বাড়ায় :
কারাতের সুফল হিসেবে শরীরে শক্তি যেমন বাড়ে, শরীরে নমনীয়তাও বৃদ্ধি পায়। আজকাল ছোটো বড়ো সব বয়সের মানুষের মধ্যেই পড়াশোনার চাপ, কাজের চাপ এত বেড়ে গেছে যে শরীরচর্চার সময়, সুযোগ সবই কমে গেছে। ফলে শরীরের নমনীয়তাও কমে যাচ্ছে। কারাতে করলে শরীরের সেই নমনীয়তা বাড়ে। যাকে আমরা বলি ফ্লেক্সিবিলিটি। আজকাল অনেকেই কোমর ঘাড় হাত পায়ের ব্যথায় ভোগেন, ফলে ওঠা-বসা বা কাজ করতে সমস্যা হয়। কিন্তু কারাতে করলে এই জাতীয় সমস্যাগুলো কাছে ঘেঁষতে পারে না। বাড়ে কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতাও। কারণ কারাতে করার প্রথম পর্ব থেকেই কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে এগোতে হয়।
রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় :
এ ছাড়া ক্যারাটে করলে হৃদযন্ত্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং হৃদয়ের সচলতা বাড়ে। ফলে সারা শরীরে রক্ত ও অক্সিজেনের সঞ্চালন বাড়ে যাকে বলা হয় ব্ল্যাড সার্কুলেশন ভালো হয়। ফলে শরীর ও মন দুই’ই সুস্থ থাকে। ত্বকের মধ্যে তারুণ্যের ভাব আসে।
সচলতা বাড়ে। ফলে সারা শরীরে রক্ত ও অক্সিজেনের সঞ্চালন বাড়ে যাকে বলা হয় ব্ল্যাড সার্কুলেশন ভালো হয়। ফলে শরীর ও মন দুই’ই সুস্থ থাকে। ত্বকের মধ্যে তারুণ্যের ভাব আসে।
আত্মবিশ্বাস ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে :
কারাতে করলে যেমন অজানা আক্রমণকে প্রতিহত করার সাহস জন্মায় তেমনই তা যে কোনও কাজে আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে তোলে। যে কোনও কাজ করার আগে লজ্জিত বা ভীত ভাব কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি অপরকে সাহায্য করার মানসিকতা গড়ে তোলে ফলে আত্মম্ভরিতা কমে যায়। সকলের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার ইচ্ছা জাগায়। এক জন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা যায়।
লক্ষ্য স্থির করে ও নিয়মানুবর্তী করে :
কারাতে লক্ষ্য স্থির রেখে একই সময়ে মন, মাথা ও শরীর চালনা করতে শেখায়। যা কেবল শত্রুর মোকাবিলাতেই কাজে আসে না, ছোটোদের লেখাপড়া ও বড়োদের কাজে লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে যাওয়ার মতো মানসিক দৃঢ়তাও তৈরি করে। কারাতে অন্যতম মূলধন হল নিয়মানুবর্তিতা। যা মানুষকে উন্নতির শিখরে পৌঁছতে অনেকটাই সাহায্য করে।