স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
পিচ গলা রোদ। সেই তপ্ত রাস্তায় গত চার ঘণ্টা ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন ষাটোর্ধ্ব সালেহা বেগম। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া শরীরটা ঘামছে অঝোর ধারায়, কিন্তু হাতের মুঠোয় ধরা লোহার শিকলটা আলগা করার উপায় নেই। শিকলের অন্য প্রান্তে বাঁধা উস্কোখুস্কো চুলের এক কিশোর। সম্পর্কে সালেহার নাতি। মানসিক প্রতিবন্ধী সাইফুলকে বাড়িতে একা রাখার সাহস পাননি তিনি, আবার পেটের দায়ে টিসিবির সস্তা চাল-ডালটুকুও ছাড়া অসম্ভব। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে খাদ্যের জন্য এই হাহাকার যেনো এক নতুন দৃশ্য। সালেহা বেগমের এই দৃশ্যটি যেন এক নির্মম উপাখ্যান। নাতি যদি ভিড়ের মাঝে কোথাও হারিয়ে যায়, কিংবা ক্ষুধার জ্বালায় অবুঝের মতো কাউকে আঘাত করে বসে—সেই ভয়েই এই লোহার শেকলের ব্যবস্থা। লাইনের কয়েকশ মানুষের ধাক্কাধাক্কি আর দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি ছাপিয়ে সালেহা বেগমের চোখে এখন একটুখানি প্রত্যাশা।
সালেহা বেগম ম্লান হেসে বলেন, “বাবা, ও তো পাগল মানুষ। কিছু বোঝে না। কিন্তু পেট তো আর পাগল না, ওরে খাওয়ামু কী? তাই বান্ধি রাখছি, পাছে হারাইয়া না যায়।”
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বিজয় দিয়েছে, দিয়েছে মানচিত্র। কিন্তু সেই মানচিত্রের প্রতিটি কোণায় এখন শুরু হয়েছে আর এক নতুন যুদ্ধ—বাঁচার যুদ্ধ।
টিসিবির গাড়ির পেছনে হাজারো মানুষের এই ছোটাছুটি আর সালেহা বেগমের মতো মানুষের অসহায় আত্মসমর্পণ যেন সেই ইতিহাসেরই এক ধূসর দলিল।






