স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক::
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় মাদকসেবী এক যুবককে আটকের পর তার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠায় জালাল উদ্দিন নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্লোজড করা হয়েছে। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রোববার (১০ মে) জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সৈয়দভাকুরী গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীরের ছেলে শাহরিয়ার ফয়সাল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। এর আগেও মাদক সেবনের অভিযোগে একাধিকবার গ্রেপ্তার হন তিনি। সম্প্রতি মাদক সেবনের অভিযোগে ফয়সালকে আটক করেন এসআই জালাল উদ্দিন। তবে মাদক মামলার পরিবর্তে অন্য ধারায় তাকে আদালতে পাঠানো হলে এলাকায় নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ফয়সালের পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী আজিজুল হক রিটুর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য এসআই জালাল উদ্দিন তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুকে জানানো হলে তিনি পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। ফয়সালের মা দিপালী খানম অভিযোগ করে বলেন, “কৌশলে সম্পত্তি লিখে নিতে প্রতিবেশী রিটু এসআই জালালকে দুই লাখ টাকা দেন। পরে ওই টাকা আদায়ের জন্য পুলিশ নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে আমাকে ও আমার পুত্রবধূকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়।” ফয়সালের স্ত্রী নিলীমাও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, এসআই জালাল উদ্দিন কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে বাড়িতে এসে বারবার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। অভিযোগের বিষয়ে আজিজুল হক রিটু বলেন, “ফয়সাল আমার কাছ থেকে জমি বিক্রির বায়না হিসেবে দুই লাখ টাকা নিয়েও জমি লিখে দেননি। এ কারণে আমি থানায় অভিযোগ করেছি।” তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই জালাল উদ্দিন বলেন, “জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য দুই পক্ষকে থানায় আসতে বলেছিলাম।” এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা রবিউল আজম জানান, অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব এসআই জালাল উদ্দিনকে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে।