1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শেষ ভরসা ডিম ও কাঁচা পেঁপের দামও চড়া গত এক সপ্তাহে দেশের নদ-নদী থেকে ১৭ মরদেহ উদ্ধার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার বড় বোনের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী বিসিবি নির্বাচন: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন তামিমের খালু শিশু হত্যা-ধর্ষণের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রগতিশীল শিক্ষকদের বিবৃতি দুর্ভোগে তেরখাদার এগার-আমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেশে ১৬ মাসে ৫২২ শিশু হত্যা, ধর্ষণের শিকার ১ হাজার ২২৩ শিশু: আসক হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু এক সপ্তাহে নদী থেকে উদ্ধার ১৭ মরদেহ ভিজিএফের বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার

সাতক্ষীরার লাখো জেলে পরিবার নিয়ে দুর্ভোগে

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ২৮ সময় দর্শন
স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক

সমুদ্র ও সুন্দরবনে মাছ ধরার ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞার কারণে সাতক্ষীরার লক্ষাধিক অনিবন্ধিত জেলে ও তাদের পরিবার চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। মাছ ধরা, পরিবহন ও বিক্রি বন্ধ থাকায় উপকূলীয় এলাকার জেলেপাড়াগুলোর লোকজন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। নিবন্ধিত জেলেরা সরকারি খাদ্য সহায়তা পেলেও অধিকাংশ অনিবন্ধিত জেলে কোনো সহায়তা না পাওয়ায় ঋণ ও দাদনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন তারা।

মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র রক্ষা এবং মাছের প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ সময় সমুদ্রে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করলে শাস্তির বিধানও রয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৯ হাজার। এর মধ্যে ১২ হাজার ৮৭৯ জন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরেন এবং তারা ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জনপ্রতি ৭৭ দশমিক ৩৩ কেজি চাল পাচ্ছেন। তবে জেলে ও ট্রলার মালিকদের দাবি, জেলায় প্রকৃত জেলের সংখ্যা দেড় লাখের বেশি। তাদের বড় অংশই অনিবন্ধিত হওয়ায় সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত।

সরেজমিনে শ্যামনগর, আশাশুনি ও তালার বিভিন্ন জেলেপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, ঘাটে সারিবদ্ধভাবে নৌকা বাঁধা পড়ে আছে। কর্মহীন জেলেরা অলস সময় কাটাচ্ছেন আর সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

আশাশুনির প্রতাপনগরের জেলে শাহজাহান সরদার বলেন, বছরের বেশির ভাগ সময় গভীর সমুদ্রে ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরলেও নিষেধাজ্ঞার সময়ে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। তিনি জানান, সমুদ্রে জলদস্যুর আতঙ্কও বেড়েছে। আবার অনেক জেলে সরকারি সহায়তার তালিকায় না থাকায় চালও পান না।
শ্যামনগরের জেলে আজগর আলী বলেন, সরকার থেকে যে চাল দেওয়া হয় তা পরিবার চালানোর জন্য যথেষ্ট নয়। পাঁচ সদস্যের পরিবারে শুধু চাল দিয়ে সংসার চলে না। ফলে ঋণ নিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হয়।

প্রতাপনগরের আরেক জেলে তৌহিদ হোসেন বলেন, জীবন বাজি রেখে মাছ ধরলেও মাছের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। নিষেধাজ্ঞার সময়ে হাতে কোনো কাজও থাকে না। শুধু চাল নয়, পরিবার চালাতে নগদ অর্থ সহায়তাও প্রয়োজন।

মানবাধিকারকর্মী মাধব দত্ত বলেন, চালের পাশাপাশি জেলেদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হলে তারা আরও সংকটে পড়বেন। উপকূলীয় এলাকায় ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তোলা গেলে জেলেরা নিষেধাজ্ঞার সময়েও আয় করতে পারবেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি এম সেলিম বলেন, শুধু চাল দিয়ে একটি পরিবারের চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। তাই চালের পাশাপাশি ডাল, তেল ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও সরকারি পুকুর ইজারার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host