মাদ্রাসায় যোগদানের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটালেন ন্যাক্কারজনক ঘটনা। শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের দায়ে পটুয়াখালীর এক মাদ্রাসাশিক্ষক হাফেজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রাঙ্গাবালী উপজেলার আকরামিয়া শিশু এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় গত ২৮শে এপ্রিল যোগদানের পর ৫ই মে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বলাৎকারের ঘটনাটি ঘটান শিক্ষক হাফেজ সফিকুল ইসলাম জিসান। পরদিন, বুধবার তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
হাফেজ সফিকুল ইসলাম জিসান বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাজলাকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। নির্যাতনের শিকার শিশুটি মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক রাতে ওই শিশুশিক্ষার্থীকে নিজের শয়নকক্ষে ডেকে নিয়ে যান। পরে সেখানেই তাকে উপুর্যপরি বলাৎকার করেন। অতিরিক্ত নিপীড়নের পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর শিশুটিকে মারধরের ভয় দেখিয়ে চুপ থাকতে বলেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর সকালে শিশুটি ব্যথা সইতে না পেরে বাড়িতে এসে ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানায়। এ ঘটনার খবর আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে দুপুরে রাঙ্গাবালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
শিশুটির বাবা বলেন, ঘটনার পর আমার ছেলেকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানো হয়, যাতে সে বাড়িতে এসে কাউকে কিছু না বলে।
শিশুটির মা বলেন, নিরাপদ ভেবে আমার ছেলেকে মাদ্রাসায় পড়তে দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম কোরানে হাফেজ হবে, দ্বীনের কাজ করবে। কিন্তু সেখানেই এমন ঘটনা ঘটবে কে জানতো! আমি এই শিক্ষকের বিচার চাই।
শিশুটিকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবারটি।
এদিকে, মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা চাই, আইনের মাধ্যমে তদন্ত করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। পাশাপাশি এই শিশুটির চিকিৎসার ব্যয়ভার আমরা বহন করব।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, মামলা দায়েরের পর ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে কোর্টে চালান করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






