স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
বিএনপির রাজনীতিতে পচন কতটা গভীরে পৌঁছেছে, তার এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটল ফেনীতে। খোদ দলের সর্বোচ্চ অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার এক আসামিকে টাকার বিনিময়ে যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হলে দায় এড়াতে তড়িঘড়ি করে তাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। তবে প্রশ্ন উঠেছে, যে নেত্রীর জন্য নেতাকর্মীরা জীবন দেওয়ার স্লোগান দেয়, সেই নেত্রীর ওপর হামলাকারী কীভাবে কমিটির তালিকায় জায়গা পায়?
অভিযোগ উঠেছে, দলের নীতি-আদর্শ তোয়াক্কা না করে বড় অংকের লেনদেনের মাধ্যমে গাজী এনামুল হক সুজনকে ফেনী পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়। অথচ এই সুজন ছিলেন ২০১৭ সালে মহিপালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে বর্বরোচিত হামলা মামলার ২৫ নম্বর আসামি। একজন চিহ্নিত হামলাকারীকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোকে রাজনৈতিক বুদ্ধিজীবীরা বিএনপির সাংগঠনিক দেউলিয়াপনা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, “ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করে পকেট ভারী করার এই সংস্কৃতি বিএনপিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।”
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রবিবার (৩ মে) দুপুরে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এনামুল হক সুজনকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। একইসঙ্গে:
বিতর্কিত কমিটি অনুমোদন দেওয়ায় ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সামনে হাজির হয়ে কৈফিয়ত দিতে বলা হয়েছে। পৌর যুবদলের বর্তমান কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত এবং বিতর্কিত ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
সুজনের মতো একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে পদ দেওয়ার প্রতিবাদে ওই কমিটির ৮ জন সদস্যের মধ্যে ৬ জনই একযোগে পদত্যাগ করেন। রবিবার দুপুরে ফেনীর শহীদ মিনারে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। তৃণমূল নেতাদের দাবি, স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা যোগসাজশ করে আওয়ামী লীগের অনুচরদের পুনর্বাসন করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল একটি সাধারণ ভুল নয়, বরং বিএনপির রাজনৈতিক নৈতিকতার চরম অবক্ষয়। গত ৫ আগস্টের পর যেখানে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে এবং পিবিআই তদন্ত করছে। সেখানে একজন আসামিকে পুরস্কৃত করা মানে হলো দলের ভেতরেই ঘাতকদের আশ্রয় দেওয়া। ‘তথ্য গোপন’-এর দোহাই দিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি পার পেতে চাইলেও, স্থানীয় পর্যায়ে তদন্ত না করে কমিটি ঘোষণা করা প্রমাণ করে যে, বর্তমানে বিএনপিতে যোগ্যতার চেয়ে ‘অর্থের ক্ষমতা’ বেশি কার্যকর।
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, তৃণমূল পর্যায়ে শৃঙ্খলার অভাব এবং নেতৃত্বের লোভ বিএনপিকে একটি আদর্শহীন সংগঠনে পরিণত করছে। আজ বহিষ্কার করা হলেও, প্রশ্ন থেকেই যায়—দলে আরও কতজন ‘সুজন’ ঘাপটি মেরে আছে?






