উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন জানান, বৃহস্পতিবার হরিহর নদী খননের অতিরিক্ত মাটি বিক্রির জন্য চারটি লটে প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট ৫০ লাখ ঘনফুট মাটি বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে নিলামে বিক্রি করা হয়।
তবে সূত্র জানায়, সরকারি নিলাম প্রক্রিয়া শেষে বিকেলে মণিরামপুর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী মাটি ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে একটি ‘নেগোসিয়েশন’ বা গোপন সমঝোতা করেন। সেখানে ওই মাটি অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা লাভে পুনরায় বিক্রি করা হয়। এই লাভের টাকা সেখানে উপস্থিত কয়েকশ নেতাকর্মীর মধ্যে বিতরণের সময় বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। টাকা শেষ হয়ে গেলেও দুই থেকে তিনশ লোক পাওনা বাকি থাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাভের টাকা নিয়ে বিতণ্ডার একপর্যায়ে তরকারি বাজারে ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন জামায়াত কর্মীদের মারপিটের শিকার হন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাল্টা ধাওয়া দেয়। এরপর কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এবং জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে।
সংঘর্ষে আহত উল্লেখযোগ্যরা হলেন,উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন। নায়েবে আমির মহিউল ইসলাম। ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন ও আল মামুন।
আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে ছাত্রদল নেতা সালিমুন ও মামুনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন অভিযোগ করেন, তাঁরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে অতর্কিত হামলা চালায়।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “প্রথমেই জামায়াতের নেতাকর্মীরা ছাত্রদল নেতাদের ওপর হামলা করে জখম করে। পরবর্তীতে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।”
শুক্রবার (১ মে) সকালে এই ঘটনার প্রতিবাদে মণিরামপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াত। সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জামায়াতকে দুর্বল ভাববেন না। চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী লেলিয়ে আমাদের নিরীহ কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে এখনও শান্ত আছি।” তিনি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান, অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
মণিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) বদরুজ্জামান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






