গত ২৭শে এপ্রিল, সোমবার রাত ৩টায় ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শুক্কুর মোহাম্মদের নতুন বাড়িতে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। পরে বৃদ্ধের বোন বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় আবুল হাসেমের ছেলে মোহাম্মদ শাহজাহান ৩০ বছর কুয়েতে প্রবাস জীবন কাটিয়ে সম্প্রতি দেশে ফেরেন। তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।
জানা যায়, প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুটি খেটে সারা জীবনের উপার্জিত অর্থে স্ত্রী কামরুন্নাহার ঝুমুরের নামে প্রায় ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং দোতলা বাড়িসহ একাধিক সম্পত্তি গড়ে তোলেন। পাশাপাশি নিজের বৃদ্ধ বাবা–মায়েরও ভরণপোষণ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। দেশে ফেরার পর ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে দুই লাখ টাকা চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছায়। তারা একই বাড়ির আলাদা কক্ষে বসবাস করছিলেন।
ঘটনার দিন সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে স্ত্রী ঝুমুর স্বামীর কক্ষের দরজায় ধাক্কা দেন। ঘুম থেকে উঠে দরজা খুললে ঝুমু কিছুক্ষণ তার পাশে শুয়ে থাকেন। পরে ‘মশার কয়েল জ্বালানোর’ নাম করে কক্ষ ত্যাগ করেন। পরে ছেলে শাহারিয়ার জাহান আতিক ও মেয়ে শাহারিয়া জাহান আরিফাকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে এসে শাহজাহানকে হাত–পা চেপে ধরেন।
এসময় ঝুমুর তার বুকের উপর উঠে গলা চেপে ধরেন, মেয়ে হাত-পা চেপে ধরেন এবং ছেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে হামলাকারীরা কক্ষ ত্যাগ করে। অন্য কক্ষে গিয়ে তারা ঘটনাটিকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে সাজানোর ছক আঁটতে থাকে।
এরইমধ্যে জ্ঞান ফিরে পেলে রক্তাক্ত অবস্থায় শাহজাহান বাথরুমে গিয়ে স্থানীয়দের ফোনে খবর দিলে তারা এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নাজিরহাট মেডিকেলে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর এলাকাবাসী অভিযুক্ত স্ত্রী, ছেলে-মেয়েদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় শাহজাহানের বোন সুমি আক্তার বাদী হয়ে ভাবী ঝুমুর (৪১), ছেলে শাহারিয়ার জাহান আতিক (১৯) ও মেয়ে শাহারিয়া জাহান আরিফাকে (২২) আসামি করে আরো ২–৩ জনকে অজ্ঞাত উল্লেখ করে ফটিকছড়ি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুমন জানান, সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাহজাহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে আসামিরা ঘটনাটি ডাকাতি বলে চালানোর চেষ্টা করলেও পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রকৃত ঘটনা স্বীকার করে।
ফটিকছড়ি থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ভুক্তভোগীর বোন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িত স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার সত্যতা স্বীকার করেছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।






