স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
শিক্ষাঙ্গনে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চিরতরে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ। সংগঠনটির মতে, গোপন সাংগঠনিক কার্যক্রম ক্যাম্পাসে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলছে। গুপ্ত রাজনীতির চর্চার অর্থ অগণতান্ত্রিক ‘হিডেন এজেন্ডা’ বাস্তবায়ন করা, এমন দাবি সংগঠনটির। ২৬শে এপ্রিল, রোববার বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনের নেতারা।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাবিসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বিগ্ন। এ ধরনের ঘটনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভীতি ও অনিশ্চয়তা ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা তৈরি করছে বলে মনে করেন তিনি।
ছাত্র জমিয়তের মতে, ক্যাম্পাস কোনো সংগঠনের লাঠিয়াল বাহিনীর মহড়া দেওয়ার জায়গা নয়। পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতিকে ‘নোংরা প্রতিযোগিতা’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
তাদের দাবি, জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের যে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা ছিল, বর্তমানে তা বিভক্তি ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে—যা উদ্বেগজনক। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে গোপন রাজনীতির অর্থ হলো কোনো অগণতান্ত্রিক পরিকল্পনা বা ‘হিডেন এজেন্ডা’ থাকা, বলছে সংগঠনটি।
রিদওয়ান মাযহারী বলেন, গোপন রাজনীতি ক্যাম্পাসে হঠাৎ উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং শিক্ষার্থীদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এ ধরনের কার্যক্রম রাজনৈতিক অপরাধ। এসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড উন্মুক্ত ও দৃশ্যমান করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কোনো রাজনৈতিক দলের টর্চার সেল হতে পারে না জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি বলেন, এটি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হওয়া উচিত। হলে সিট বাণিজ্য ও বড় ভাই সংস্কৃতি বন্ধ করে প্রশাসনিক নিয়মে সিট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে চারটি দাবি জানায় সংগঠনটি। চার দাবি হলো—
১. ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে লিপ্ত সকল পক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
২. গুপ্ত ও গোপন ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে হবে উন্মুক্ত ও দৃশ্যমান।
৩. প্রতিটি হলের গেস্টরুম ও গণরুম প্রথার অবসান ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের মানবিক আবাসন নিশ্চিত করতে হবে এবং ক্যাম্পাসকে কোনো একক সংগঠনের ‘পেশিশক্তির চারণভূমি’ হতে দেওয়া যাবে না।
৪. ইনসাফপূর্ণ ও সংঘাতমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সহসভাপতি নুর হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক সাদ বিন জাকির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম, সহসাধারণ সম্পাদক বায়জিদ আহমাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইনআমুল হাসান নাইম, প্রচার সম্পাদক আহমাদ আল গাজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র জমিয়তের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান তকি, নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক আবুল হাসানাত মেহরাব, ঢাকা মহানগর পূর্বের সহসভাপতি কামরুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলার আহ্বায়ক আহমাদ, মিনহাজুল ইসলাম, নাহিদ আজাদী প্রমুখ।






