খুলনার তেরখাদা উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে নুর আলম (৫৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৪-৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষজনক আতঙ্কে আছেন। ২৫শে এপ্রিল, শনিবার সকালে উপজেলার ৬ নম্বর মধুপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নুর আলম স্থানীয় বাসিন্দা ইকরাম শেখের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মোড়লের সঙ্গে একই ইউনিয়ন বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মধুপুরের বিলে দুজনের ধানক্ষেত আছে। আজ সকালে সাইফুল ইসলামের পক্ষের পাঁচ জন কৃষক ওই বিলে ধান কাটতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে শহিদুলের লোকজন বাধা দেন।
এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। এতে সাইফুলের পক্ষের নুর আলম নিহত হন। এ ছাড়া মো. সোহেল রানা, মুসা শেখ, মফিজুর রহমান মুন্সি ও আলী হুসাইন আহত হন।
আহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মধুপুর এলাকার আমজাদ হোসেনের বাড়ির সামনে একটি জমির ধান কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতা শহিদুল ও সাইফুলের লোজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে পাঁচ জন গুরুতর আহত হন।
তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুরে আহত নুর আলমের মৃত্যু হয়, বলেন তিনি।
ওসি আরও বলেন, শহিদুল ও সাইফুলের মধ্যকার বিরোধ দীর্ঘদিনের। তারা উভয়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাইফুলের লোকজনের ওপর হামলা চালান। এতে ২০-২৫ জন অংশ নিয়েছেন। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছেন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।






