1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া ৫২ হাজার কোটি বেড়েছে দাখিল পরীক্ষার্থী রাষ্ট্রের ক্ষতি ৮৫৫ মিলিয়ন ডলার: কাতারের সাথে শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সত্ত্বেও পিটার হাস থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি ক্রয় তেরখাদায় চিত্রা নদীতে গোসলে নেমে তলিয়ে মৃত্যু, একদিন পর মরদেহ উদ্ধার জামালপুরে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ জন গ্রেফতার এক দফা দাম বাড়ানোর পর ভোক্তাপর্যায়ে আবারও এলপিজির দাম বাড়িয়েছে সরকার চবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার পোস্টার হাতে অবস্থান বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি চরম বিপর্যয়ের মুখে উপসাগরের যুদ্ধ অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে পাকিস্তানকে  কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ

শহরের চেয়ে গ্রামে সংকট তীব্রতর, ৭-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৪ সময় দর্শন

স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক

তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে, যার প্রভাব শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকার তথ্য মিলেছে। জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকটি জেলায় গত কয়েক দিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। দিন-রাতের বড় অংশজুড়েই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মেহেরপুরের আমঝুপি এলাকার ব্যবসায়ী মোতাহার হোসেন বলেন, রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যায় এবং সার্বিকভাবে দিন-রাত মিলিয়ে অর্ধেকের বেশি সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। তার ভাষায়, গরম যত বাড়ছে, লোডশেডিংও ততই বাড়ছে—কখনো ৭ ঘণ্টা, কখনো ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারাও লোডশেডিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, অনেক এলাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি ৩০ থেকে ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়টিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তবে এ বছর জ্বালানি সংকটসহ নানা কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার অফিস সময় কমানো, শপিং মল দ্রুত বন্ধ করার মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় উৎপাদন কমে গেছে। এসব কেন্দ্র দ্রুত চালুর চেষ্টা চলছে।

মেহেরপুরের আরেক বাসিন্দা সঞ্জীব রায় জানান, পৌর এলাকার বাইরে লোডশেডিং বেশি হলেও শহরে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো—সেখানে দিনে দুই থেকে তিনবার বিদ্যুৎ যায়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মেহেরপুর জোনের জেনারেল ম্যানেজার স্বদেশ কুমার ঘোষ বলেন, চাহিদার তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, যার ফলে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার কথাও জানান তিনি।

লালমনিরহাট ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেও একই ধরনের পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে দেশে লোডশেডিং ১,৮০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। এপ্রিলের শুরু থেকে প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলেও চাহিদা তার চেয়ে বেশি থাকছে। একদিন সন্ধ্যায় উৎপাদন ছিল ১৪,০৮০ মেগাওয়াট, যেখানে চাহিদা ছিল ১৪,৮০০ মেগাওয়াট—ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ৬৮৮ মেগাওয়াট। পরদিন বিকেলে চাহিদা বেড়ে ১৪,৬০০ মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন নেমে আসে ১২,৬৭০ মেগাওয়াটে, যার ফলে লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ১,৮৪৩ মেগাওয়াট—এ মাসের সর্বোচ্চ। পিডিবির তথ্য বলছে, দেশের ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট সক্ষমতা প্রায় ২৮,৯১৯ মেগাওয়াট হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে এর অর্ধেকেরও কম ব্যবহার করা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কয়লার সংকট, বকেয়া পরিশোধের সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা—সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই লোডশেডিংয়ে পড়তে শুরু করেছে।

সামগ্রিকভাবে, গ্রীষ্মের শুরুতেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির এই অবনতি ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host