রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলার ১০টি ফিলিং স্টেশনের কোনোটিতেই জ্বালানি তেল নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন যানবাহন চালক ও কৃষকেরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। বুধবার বেলা ১টার দিকে নিজ নিজ উপজেলার পাম্প গুলোতে তেল না থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তারা। তারা হলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস, কালুখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন, পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক এবং রাজবাড়ীর এনডিসি মো. হাফিজুর রহমান। বুধবার বেলা ১১টায় সরেজমিনে রাজবাড়ী শহরের কাজী ফিলিং স্টেশন, পলাশ ফিলিং স্টেশন, রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশনে গিয়েও দেখা যায়, তেলের মজুদ না থাকায় পাম্পের চারপাশে বাঁশ ও রশি বেঁধে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
কাজী ফিলিং স্টেশনে কথা হয় লোকাল বাস রাজমহলের সুপারভাইজার মো. শাহজাহানের সঙ্গে। তিনি বলেন, শহরের তিনটা পাম্পের একটাতেও তেল নেই। তেল না থাকায় গাড়ি ট্রিপে বের হতে পারছে না। অধিকাংশ গাড়িই তেলের অভাবে বসে আছে। সরকারের কাছে চাইবো যেন দ্রুত তেলের সংকট দূর করার ব্যবস্থা করুক।
পাশেই বসে ছিলেন কৃষক তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সকাল থেকে পাম্পে এসে বসে আছি তেলের জন্য, কিন্তু তেল পাচ্ছি না। পাম্পে যারা রয়েছেন তারা বলছে তেল নেই। গতকালও (মঙ্গলবার) এসেও ফিরে গেছি। এভাবে চললে তো কৃষক বাঁচবে না। আমি জমি চাষ করতে পারছি না, পাট ক্ষেতে, ধান ক্ষেতে পানি দিতে পারছি না।”
আরেক কৃষক বাচ্চু শেখ বলেন, “তেল যাচ্ছে কোথায়? পাম্পে আসলি কয় তেল নাই। তালি আমরা কৃষি কাজ করবো কিভাবে? এক পাহি জমিতি ধরেন ৫ লিটার তেল লাগবি, সেনে পাচ্ছি ২ লিটার। ওই দিয়ে ইটু পানি দিতিই তেল শেষ। তারপর বাড়ি চলে আসা লাগে। ”
পাংশা থেকে ঢাকাগামী মোটরসাইকেল চালক ফয়সাল হোসেন বলেন, “পাংশায় দুইটা তেল পাম্পে তেল নেই। সেখান থেকে কালুখালিতে আসলাম সেখানেও তেল নেই। এখন রাজবাড়ীতে এসেও দেখছি বন্ধ। তাহলে আমি ঢাকাতে যাবো কিভাবে? যা তেল আছে হয়তো ফেরিঘাট পর্যন্ত যেতে পারবো। তারপর? দ্রুত তেলের সংকট সমাধান করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।”
কাজী ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার উজ্জল হোসেন বলেন, “বৈশাখের ছুটির কারণে ডিপো থেকে সরবরাহ না থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। আর অন্য সময় যেটুকু তেল সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
তিনি বলেন, “আমার এখানে ডিজেলের চাহিদা ১২ হাজার, পাচ্ছি ৪ হাজার, পেট্রোলের চাহিদা ৭ হাজার, পাচ্ছি আড়াই হাজার। চাহিদার তুলনায় অনেক কম পাচ্ছি। বুধবারও তেল ডিপো থেকে আসবে না। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ছাড়া ডিপো থেকে তেল আসার সম্ভাবনা নেই। ”