কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ‘পীর’ হত্যার ঘটনার পর জনপ্রিয় বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলের গ্রামের বাড়ি ও আশ্রমে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, নিহত পীরের সাথে ভাইরাল হওয়া প্রায় ৩ বছর আগের একটি ভিডিওতে শফি মণ্ডলকে দেখা গেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এই ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ গ্রামের ভাবনগর সংগীত আশ্রম ও শফি মণ্ডলের বসতবাড়িতে প্রশাসনের নির্দেশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি স্থানীয় কয়েকটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশ করা হয়। প্রায় ৩ বছর আগের ৩০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দৌলতপুরের ফিলিপনগর ইউনিয়নের একটি দরবারের পীরের বিরুদ্ধে কোরআন ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। ভিডিওতে আপত্তিকর মন্তব্য শোনা যায় এবং সেখানে শফি মণ্ডলের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। এ ঘটনার পর ওই পেজ থেকেই দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শফি মণ্ডলসহ কয়েকজন বাউল শিল্পীকে ইঙ্গিত করে উসকানিমূলক পোস্টও করা হয়, যা এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে। এ বিষয়ে শফি মণ্ডলের জামাতা মুকুল হোসেন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আমার শ্বশুরকে দেখা গেলেও তিনি শামীমের অনুসারী নন। তিনি একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে সেদিন সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি লালন অনুসারী এবং ধর্মবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।’ তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার রাত থেকে শ্বশুরের বাড়ির এলাকায় পুলিশ অবস্থান করছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা আমরা কখনো ভাবিনি।’
জানা গেছে, শফি মণ্ডল বর্তমানে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থান করছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রামে আসেন। বাউল শিল্প ফকির শফি মন্ডলের ব্যাবহৃত নম্বরে ফোনকল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়এ বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, চলমান ঘটনার প্রেক্ষিতে যেন আর কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তাই পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শফি মণ্ডলের গ্রামের বাড়ি ও আশ্রমে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।’
এর আগে গত শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’ নামের একটি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই দরবারের প্রধান আব্দুর রহমান ওরফে শামিমকে (৬৫) পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় হামলায় তাঁর আরও তিন অনুসারী আহত হয়েছেন। তারা হলেন–মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের। তারা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।