ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছেলের গুলিতে বাবাসহ দুজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। রোববার বেলা আড়াইটার দিকে জামিরদিয়া নারিশ কোম্পানির গেইট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ভালুকা থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন।
আহত খোকা মিয়া ভালুকার জমিরদিয়া মাস্টার বাড়ি এলাকার আব্দুল মিয়ার ছেলে। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনি দ্বন্দ্বে আহত অবস্থায় খোকা নিয়া নামে একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার শরীরে কোপ ও গুলির চিহ্ন রয়েছে।”
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্র করে বাবা খোকা মিয়া বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর সমর্থক ছিলেন। অপরদিকে ছেলে রানা মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের পক্ষে কাজ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল।
রোববার দুপুরে নির্বাচনের পর থেকে বন্ধ থাকা নারিশের মোড়ের একটি রাজনৈতিক কার্যালয় খুলে বসেন রানা। বিষয়টি দেখে খোকা মিয়া কার্যালয়টি বন্ধ করতে বললে বাবা-ছেলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এ সময় রানা তার বাবাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। আর তার সঙ্গে থাকা লোকজন খোকা মিয়ার সঙ্গে আসা ব্যক্তিদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেন। সংঘর্ষের সময় দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে থাকা চেয়ার-টেবিলও ভাঙচুর করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহত দুইজনকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ খোকাকে গুরুতর আহত অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
ওসি জাহেদুল ইসলাম বলেন, “বাবা ছেলের সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে বাবার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।”
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান।