শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্থগিত হওয়া ভোট গ্রহণ আগামী ৯ এপ্রিল হতে যাচ্ছে। জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামানের আকস্মিক মৃত্যুতে এখানে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। এই আসনে মূল লড়াইয়ে আছেন বিএনপির তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল এবং জামায়াতের নতুন মুখ মাসুদুর রহমান মাসুদ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন। এর মধ্যে শ্রীবরদী উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ৬০৪ জন এবং ঝিনাইগাতী উপজেলায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৩ জন। দুই উপজেলা মিলিয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার ৩০৪ জন। এছাড়া সীমান্তবর্তী এই আসনে প্রায় ১৫-১৬ হাজার সংখ্যালঘু ও নৃ-গোষ্ঠীর ভোট রয়েছে, যা জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বিএনপির কৌশলী অবস্থান
বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে মাঠে বেশ কৌশলী। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে এলাকায় পরিচিত। দলীয় বিদ্রোহ দমনেও তিনি সফল হয়েছেন। তাঁর অনুরোধে আওয়ামী লীগ ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় তাঁর ভোট ব্যাংক আরও শক্তিশালী হয়েছে। রুবেল শুধু প্রচারণাতেই সীমাবদ্ধ নেই, তিনি ব্যক্তিগত সংযোগে জোর দিচ্ছেন। কখনও পাহাড়ি জনপদে হেঁটে, কখনও মোটরসাইকেলে চষে বেড়াচ্ছেন গারো পাহাড়ের অলিগলি। ভোটারদের মন জয়ে তিনি প্রতিপক্ষ জামায়াত নেতার কবর জিয়ারত করছেন এবং আওয়ামী লীগ ঘরানার ভোটারদের আশ্বস্ত করছেন যে, নির্বাচিত হলে তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি করবেন না। তাঁর পক্ষে স্ত্রী ফরিদা হক দীপা এবং কন্যা রুবাইদা হক রিমঝিম উঠান বৈঠকে নারীদের কাছে টানছেন। শ্রীবরদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক চৌধুরী আকুল বলেন, ‘রুবেল ভাই সবার প্রতি সহৃদয়। তিনি জামায়াত প্রার্থী মরহুম বাদলের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখেছেন। তাঁর দরজা সবার জন্য খোলা।’
জামায়াতের আবেগ ও নবীন নেতৃত্ব
অন্যদিকে, জামায়াত তাদের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দিয়েছে সাবেক সেনা সদস্য ও মরহুম নুরুজ্জামানের ছোট ভাই মাসুদুর রহমান মাসুদের হাতে। জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে গত ২৮ জানুয়ারি সংঘর্ষে নিহত মাওলানা রেজাউল করিম এবং প্রার্থী নুরুজ্জামানের মৃত্যুজনিত শোক বিরাজ করছে। এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে জয়ী হতে চায় দলটি। প্রার্থী মাসুদ নিজেকে ‘কৃষকের সন্তান’ দাবি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন। কোদাল দিয়ে মাটি কাটা থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছেন তিনি। শ্রীবরদী জামায়াতের যুব বিভাগের সেক্রেটারি জাকির হোসেন বিশ্বাস করেন, ভোটাররা মরহুম নেতাদের শ্রদ্ধা জানিয়ে মাসুদকে জয়ী করবেন।