মাফিকুল ইসলাম, পার্বতীপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুর সদর উপজেলায় অনুষ্ঠিত কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে ১০ বছর বয়সী কিশোর রাদ শাহমত (রাফি)। প্রতিযোগিতায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় তাকে পুরস্কার, সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।
রাদ শাহমত রাফি দিনাজপুর সদর উপজেলার ৫ নম্বর নিউটাউন (তারকাঁটা মিলের দক্ষিণে) এলাকার বাসিন্দা। সে স্থানীয় মাদরাসাতুল হুদা দিনাজপুর (নৈশ মাদরাসা)-এর শিক্ষার্থী। তার বাবা আল ওয়ারেউর রহমান মিথুন একজন ব্যাংক কর্মকর্তা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই রাফির বাবা-মা তাকে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন শিক্ষার প্রতি উৎসাহিত করে আসছেন। আধুনিক শিক্ষা ও ধর্মীয় জ্ঞানের সমন্বয় ঘটানোর লক্ষ্যেই তাকে মাদরাসাতুল হুদা দিনাজপুরে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ‘কোরআন অক্ষরসহ দেখে পড়া’ বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় অল্প বয়সেই পবিত্র কোরআন শরিফ মুখস্থ (হিফজ) সম্পন্ন করে রাফি।
মাত্র ১০ বছর বয়সে কোরআন শরিফ মুখস্থ করার এই কৃতিত্ব এলাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। জানা গেছে, প্রতিদিন নিয়মিত পাঁচ পৃষ্ঠা থেকে শুরু করে কখনো ১০ থেকে ১৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত সবক দিত সে। এভাবেই ধারাবাহিক অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই হিফজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়। তার এই সাফল্যে শিক্ষক, সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা আনন্দিত ও গর্বিত।
রাদ শাহমত রাফি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, অল্প বয়সে কোরআন শিক্ষা অর্জন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমার শিক্ষক, সহপাঠী এবং পরিবারের সবাই খুশি। আমি বড় হয়ে একজন আলেম হতে চাই। বিশেষ করে শায়েখ আহমাদুল্লাহ হুজুরের মতো আলেম হওয়ার স্বপ্ন দেখি এবং একদিন তাঁর সঙ্গে দেখা করে দোয়া নিতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বড় হয়ে এমন একজন আলেম হতে চাই, যেন আমার বাবা-মা মৃত্যুবরণ করলে তাদের জানাজার নামাজ পড়াতে পারি।”
রাফির শিক্ষকরা জানান, সে অত্যন্ত মেধাবী, নম্র ও ভদ্র স্বভাবের একজন শিক্ষার্থী। অন্য শিশুরা যখন বিকেলে খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকত, তখন রাফি পড়াশোনায় মনোযোগ দিত। এমনকি যেদিন তার কোরআন মুখস্থ সম্পন্ন হয়, সেদিন বিকেলেও নিয়ম অনুযায়ী পড়তে বসেছিল। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সে একজন যোগ্য আলেম হিসেবে দ্বীনের খেদমত করবে।
রাফির মা রাবেয়া বাসুরি বলেন, “আমার ও তার বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে ইসলামী আদর্শে বড় করা এবং কোরআনের শিক্ষা দেওয়া। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। এজন্য আমরা মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি তার শিক্ষকদের প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
মাদরাসাতুল হুদা দিনাজপুর (নৈশ মাদরাসা)-এর পরিচালক মাওলানা শামিম বিন আশরাফ বলেন, “রাফি একজন বিস্ময়কর মেধাবী কিশোর। এত অল্প বয়সে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করা মোটেও সহজ কাজ নয়। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন তাকে দ্বীনের খেদমতের জন্য কবুল করেন।”