খুলনা তেরখাদা প্রতিনিধি :
তোরখাদা উপজেলায় পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আবারও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে দাম, ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও ভোগান্তি। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, চাল, ডাল, চিনি, ছোলা, তেল, সবজি, কলা ও আমিষসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তারা পড়েছেন চাপে।
উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে, কাঠেংগা তোরখাদা ও জয়খোলা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজানে চাহিদাকৃত পণ্যের দামই সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ইফতারের প্রধান উপকরণ খেজুর ও ছোলার বাজারে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা এবং ভালো মানের ১১০ টাকা কেজি দরে। রোজার আগে ৯৫ টাকা বিক্রি হওয়া চিনি এখন ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তেলের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি স্পষ্ট। বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা লিটার দরে, আর খোলা সয়াবিন তেলের দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে।
দুই দিন ব্যবধানে দুগ্ধ বাজারেও অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেছে। গরুর দুধের দাম লিটারে প্রায় ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ৯০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগেও ৭০ থেকে ৮০ টাকা ছিল। একই সঙ্গে সবজির বাজারেও লাফিয়ে বেড়েছে দাম। বেগুনের কেজি ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় পৌঁছেছে।
রমজানের শুরুতেই হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দামের এই চিত্র স্পষ্ট। ছোট চাপা কলা এক কুঁড়ি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, যা মাত্র দুই দিন আগেও ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। ভালো মানের আপেল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং সবরি কলা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে।
এছাড়া গোশত ও আমিষ পণ্যের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন প্রজাতির ব্রয়লার মুরগির বাজার ৫৫৫ থেকে ৬৮০ টাকা (৫ কেজি), যা দুই দিন আগেও ছিল ৫০০ টাকা। খাসির মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা, রুই, কাতলা মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, দেশি মুরগি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং চিংড়ি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ডালপ্রতি ১৫০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না।
এদিকে ডিমের দামও বেড়েছে। হালি প্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। একই সঙ্গে অন্যান্য সবজি ও মসলার দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। বাজার করতে আসা একাধিক ক্রেতা জানান, প্রতি বছর রমজান এলেই ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে প্রশাসনের কার্যকর মনিটরিং জরুরি বলে তারা মনে করেন।
বাজার মনিটরিংয়ের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.বি এম সারোয়ার রাব্বী বলেন, রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।