জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন প্রণীত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী, জন্মতারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের সব আবেদন এখন থেকে মাঠ পর্যায়ে নয়, সরাসরি এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে। সম্প্রতি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক মুহা. সরওয়ার হোসেনের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২৪শে ডিসেম্বর নতুন এসওপি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, জন্মতারিখ বা জন্মতারিখসহ অন্য কোনো তথ্য সংশোধনের আবেদনগুলো ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। আগে এসব আবেদন মাঠ পর্যায়ের আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা ক, খ বা গ—বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তি করতে পারতেন। এছাড়া প্রজ্ঞাপন জারির আগে মাঠ পর্যায়ে জমা পড়া এবং পূর্বনির্ধারিত ক্যাটাগরিভুক্ত আবেদনগুলোও এখন ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করতে হবে।
এনআইডি উইংয়ের অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করে মহাপরিচালক পর্যায়ে এসব আবেদন নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করবেন।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ইসি তিনটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে :
১. জন্ম তারিখ সংক্রান্ত যে আবেদনগুলো আগে ‘ক-১’ থেকে ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ছিল, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে আগামী ২৩শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে।
২. প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা আগামী ২৮শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব আবেদনের ক্যাটাগরি পরিবর্তন করে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করবেন।
৩. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সংশোধন কার্যক্রম সীমিত থাকায়, বর্তমানে জমে থাকা অনিষ্পন্ন আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন আরও জানায়, কেন্দ্রীয়ভাবে আবেদনগুলোর ক্যাটাগরি নির্ধারণ এবং ডিজি পর্যায়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ফলে এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
তবে মাঠ পর্যায় থেকে সব ফাইল প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হলে কাজের চাপ বাড়তে পারে কি না— তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কিছুটা সংশয় রয়েছে। এদিকে আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নতুন নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।






