মব সহ্য করা হবে না, পুলিশকে জনগণের বন্ধু বানাতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রতিবেদকের নাম :
-
আপডেটের সময় :
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
-
৫২
সময় দর্শন
স্বপ্ন প্রতিদিন রিপোর্ট
নতুন সরকারের প্রথম কর্মদিবসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, দাবি আদায়ের জন্য ‘মব কালচার’ আর সহ্য করা হবে না। একইসঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের বন্ধু হিসেবে গড়ে তোলা এবং মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আজ বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, “দাবি আদায়ের জন্য মব কালচার এটা সহ্য করা হবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “মন্ত্রণালয় মানে বাংলাদেশের মানুষ জানেই পুলিশ। পুলিশকে জনগণের বন্ধু বানাতে হবে। যে ভাবমূর্তি আগে নষ্ট হয়েছে সেটার উত্তরণ ঘটাতে হবে।”
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “টোটালি করাপশন ফ্রি মিনিস্ট্রি বানাতে হবে, সবার দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা থাকবে। যে কেউ বাহিনীর মধ্যে অপরাধে জড়িত থাকলে সাথে সাথে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক এই বক্তব্যের পরপরই রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। অনেকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘর, দলীয় কার্যালয় এবং স্মৃতিসৌধে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও দখলের ঘটনা ঘটেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামীর বাড়ি সুধাসদন, বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘরসহ সারাদেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৫ই আগস্টের পর আওয়ামীপন্থীদের ওপর প্রতিশোধমূলক সহিংসতা ও মব সন্ত্রাস বেড়েছে। নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘মব কালচার’ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন, যা ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রায় ৫৫৯ দিন ধরে চলা মব সহিংসতার প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পুলিশ সংস্কারের প্রতিশ্রুতিমন্ত্রী পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং অতীতের নেতিবাচক ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রণালয় গঠনের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথাও তিনি বলেন।
এই বক্তব্য নতুন সরকারের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সংস্কারের দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এটিকে ‘দ্বিমুখী নীতি’ বলে সমালোচনা করছেন, কারণ অতীতে তাদের দলের লোকজনই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এ নিয়ে আরও বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Please Share This Post in Your Social Media
এই বিভাগের আরও খবর