সারা দেশে যখন ভোটের আমেজ, ঠিক তখনই ফেনীর মাস্টারপাড়া এলাকার পিটিআই কেন্দ্রে দেখা মিলল এক ভুতুড়ে পরিস্থিতির। ৪ হাজারের বেশি ভোটার থাকা সত্ত্বেও ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিরাজ করছে শ্মশানের নীরবতা। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও আড়াই ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও ভোটবাক্স প্রায় শূন্যই পড়ে আছে।
ফেনীর মাস্টারপাড়া ও সহদেবপুর এলাকার ভোটারদের জন্য নির্ধারিত পিটিআই কেন্দ্র-১ এবং কেন্দ্র-২ এর চিত্রটি ছিল চরম হতাশাজনক। মোট ১২টি বুথে ৪,২৮৩ জন ভোটার (পুরুষ ৩,২১২ ও নারী ১,০৭১) থাকার কথা থাকলেও, ভোটারদের টিকিটিরও দেখা মেলেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, পিটিআই কেন্দ্র-১ এর সামনে বাঁশের বেষ্টনী দিয়ে লাইন করা হলেও সেখানে কোনো মানুষের পা পড়েনি। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. ওয়াসিম পাটোয়ারী জানান, সকাল থেকে প্রতিটি বুথে ১০০টি করে ব্যালট পেপার পাঠানো হলেও তা অব্যবহৃতই রয়ে গেছে। ভোটার উপস্থিতি নেই বললেই চলে।
একই করুণ দশা পাশের মহিলা ভোটকেন্দ্রটিরও (পিটিআই কেন্দ্র-২)। ১,০৭১ জন নারী ভোটার থাকলেও কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ ফাঁকা। সেখানকার প্রিজাইডিং কর্মকর্তা শেখ হেলাল উদ্দিনও স্বীকার করেছেন যে, সকাল থেকে ভোটার উপস্থিতি একদম নগণ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি জামায়াত অধ্যুষিত এলাকায় এমন নীরবতা ও ভোটারদের অনাগ্রহ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যখন শহরের অন্যান্য কেন্দ্রে কিছুটা তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে, তখন হাজার হাজার ভোটার অধ্যুষিত এই দুই কেন্দ্রের ‘ভোট খরা’ ও কর্মকর্তাদের অলস সময় পার করার দৃশ্য নির্বাচনের সামগ্রিক চিত্রে এক নেতিবাচক ছায়া ফেলেছে।
সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে ভোটারদের এমন চরম বিমুখতা ও কেন্দ্রের জনমানবহীন প্রান্তর বলে দিচ্ছে—এই নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের মাঝে ভোট নিয়ে উৎসাহের বদলে শুধুই অনীহা বিরাজ করছে।