পঞ্চগড়-১ আসনের (পঞ্চগড় সদর, আটোয়ারি ও তেতুলিয়া উপজেলা) নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত ১০টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত। পঞ্চগড় পৌরসভার সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান রিলুর (লিচুতলা) বাসায় অবস্থানকালে বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী বাসাটি ঘেরাও করে রাখেন বলে অভিযোগ। এ সময় সারজিস আলমসহ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ইকবাল হোসাইন এবং ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী এজেন্ট নাসিরউদ্দিন সরকার সেখানে ছিলেন।
দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকার পর সার্কেল এসপি শাওমিক ইমতিয়াজ ও সদর থানার ওসির সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তারা নিরাপদে স্থান ত্যাগ করেন।
এর আগে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী আমিনুর রহমান রিলুকে হুমকি দিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সারজিস আলম নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “বিএনপির সন্ত্রাসী ক্যাডাররা পঞ্চগড় পৌর-এনসিপির সদস্যসচিবকে হুমকি দিয়ে এইমাত্র ২০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে গেছে।”
অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, আমিনুর রহমান রিলুর বাসায় দুই বস্তা টাকা রাখা আছে। পরে তাদের একজন প্রতিনিধি বাসার ভেতরে গিয়ে অভিযোগের কোনো ভিত্তি খুঁজে পাননি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
এ ঘটনা পঞ্চগড়-১ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরসহ অন্যান্য প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে, যা নির্বাচনী সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ ধরনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভোটাররা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশা করছেন।