মাফিকুল ইসলাম, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে তালা মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী এজেডএম রেজওয়ানুল হক তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কয়লা খনি ও পাথর খনিতে বেকারদের চাকরীর ব্যবস্থা, এতিম, দুস্থ ও অক্ষম ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে পদক্ষেপ গ্রহন, শিক্ষিত ও সিনিয়র সিটিজেনদেরকে মূল্যায়ন, চাকরীর ব্যবস্থা, ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও আলেম উলামাদের সম্মান, কৃষি ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে ১৪ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
৫ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) পার্বতীপুরে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তালা মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব এজেডএম রেজওয়ানুল হক এ নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ করেন। ইশতেহারে অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে, তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির মাধ্যমে গরীব ও মেধাবীদের বৃত্তি ও চাকরীর ব্যবস্থা, ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও আলেম উলামাদের সম্মান ও আর্থিক সুবিধাদীর ব্যবস্থা, ধর্মীয় শিক্ষার সম্প্রসারন ও যুগোপযোগী ও সড়ক ও জনপথ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি।
তিনি নির্বাচিত হলে ব্রিটিশ আমলের পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ীর রেলওয়ে ষ্টেশনের আধুনিকায়ন ও রেলওয়ের পরিত্যক্ত ঘরবাড়ী সমুহের সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন করবেন। পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ীতে ভূমি অফিস, সেটেলম্যান অফিসসহ সব সরকারী অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করে জনগণকে হয়রানির হাত থেকে রক্ষা করা এবং সরকারী খাস জমি সমুহ প্রকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে বরাদ্দ দেয়ার কাজ করবেন। শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও পার্বতীপুর, ফুলবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী পুরনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহকে পর্যায়ক্রমে সরকারি করনের আওতায় আনা এবং শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া হবে। শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া হবে। সম্মানিত ও উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিদের গভর্নিং বডি/ম্যানেজিং কমিটিতে স্থান দেয়া। পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ীর প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ীকে চাঁদা ও সন্ত্রাসমুক্ত করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা জনগনের দুয়ারে পৌঁছে দেবার জন্য বিদ্যমান হাসপাতাল সমুহ রেখে প্রয়োজনে নতুন চিকিৎসা কেন্দ্র খুলে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, ঔষধ ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করা হবে। উভয় উপজেলায় মাদক ও চোরাচালান মুক্ত সমাজ গঠন করে বেকারত্ব দুরীকরণে প্রয়োজনীয় শিল্প কল-কারখানা নির্মাণে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কয়লাখনি ও পাথরখনিতে বেকারদের চাকরীর ব্যবস্থা করা হবে।
এতিম, দুস্থ ও অক্ষম ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করা ও শিক্ষিত ও সিনিয়র সিটিজেনদেরকে যথার্থ মূল্যায়ন করাসহ তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির মাধ্যমে গরীব ও মেধাবীদের বৃত্তি ও চাকরীর ব্যবস্থা করনে উদ্যোগ নেয়া হবে। দলমত, ধর্ম, বর্ন, নির্বিশেষে সমাজে সকল মানুষের অসম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে কাজ করা হবে। আত্নীয়তা ও পক্ষপাতহীন আচরনের মাধ্যমে সমাজের উন্নয়ন করা ও সার্বক্ষনিক বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে ব্যবসা বাণিজ্যে গতি ফিরিয়ে এনে একটি ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে কাজ করা হবে। এছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন এবং মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলে নীতি গ্রহণের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ইশতেহার ঘোষণার পর জাতীয় ও স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এজেডএম রেজওয়ানুল হক। এসময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।