ভোলা-২ সংসদীয় আসনের দৌলতখান উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ তুলেছে। ৩রা ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের মুন্সিরহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচার কার্যক্রম চলাকালে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় উভয় পক্ষই লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
দৌলতখান উপজেলা জামায়াতের আমির হাসান তারেক হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, সকালে মেদুয়া ইউনিয়নের মুন্সিরহাট এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা গণসংযোগে অংশ নেন। এ সময় দলীয় প্রতীকের স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় জামায়াতের ২০ নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি হাসান তারেকের। পুলিশ ও নৌবাহিনী না এলে জামায়াতের নেতাকর্মীদের লাশ ফেলে দিত বিএনপি, দাবি করেন তিনি। তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে গুরুতর ৪ থেকে ৫ জনকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দৌলতখান উপজেলার চরপাতা, দক্ষিণ জয়নগর ও সৈয়দপুরসহ আরও কয়েকটি ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থকেরা জামায়াতের প্রচারণায় বাধা দিয়েছেন।
অন্যদিকে দৌলতখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান সাজু পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে ভোলা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর আগমন উপলক্ষে সকালে তাদের নেতাকর্মীরা লাঠির মাথায় পতাকা বেঁধে মিছিল বের করেন। আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর অনুরোধ জানালে জামায়াত সমর্থকেরা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে বিএনপির ২০ নেতাকর্মী আহত হন।
তিনি জানান, আহতদের মধ্যে গুরুতর তিনজনকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এবং একজনকে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছে। তবে জামায়াতের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াতের উদ্দেশ্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বানচাল করা।
এ বিষয়ে দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খাইরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মেদুয়া ইউনিয়নের সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
জামায়াতের একটি জনসভা থাকায় সেখানে আগে থেকেই পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। তবে এখনো কোনো পক্ষের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।