মোছাঃ আছমা আক্তার আখি পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি,
পঞ্চগড় -১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে জেলা রির্টানিং অফিসার কারণ দর্শানো নোটিশ করেন। প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট ব্যারিষ্টার নওফেল আরশাদ জমির এই নোটিশের জবাব দিয়েছেন। আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি কারণ দর্শানো নোটিশের ব্যাখা দিয়েছেন। ব্যাখায় তিনি বলেন, নোটিশে উত্থাপিত অভিযোগ সমূহ উক্ত অভিযোগ সমূহ বাস্তবতা ও প্রকৃত ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নহে। কোন ভাবেই আমার দ্বারা আইন, বিধি বা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা লংঘন সংঘটিত হয় নাই। প্রকৃত পক্ষে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমি সর্বদা প্রচলিত আইন ও নিয়মকানুন অনুসরন করিয়াছি এবং আমার কোন কার্যকলাপ অসৎ উদ্দেশ্য প্রনোদিত বা বেআইনী ছিল না। নোটিশে বর্নিত অভিযোগ সমূহ ভুল বুঝাবুঝি ও অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে উত্থাপিত হয়েছে বলে আমি মনে করি।
আপনার উত্থাপিত ২নং অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন,গত ২৩/০১/২০২৬ তারিখ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনায় অভিযান পরিচালনাকালে আমার বা আমার কর্মীদের দ্বারা নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লংঘনের অভিযোগ করিয়াছেন। কিন্তু এখানে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ নেই যে, কোন বিধিমালা কিভাবে লংঘন হইয়াছে। আপনার প্রেরিত পত্রে বিএনপি প্রার্থীর ফেস্টুন অপসারনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আমি মনে করি যে আপনারা ফেস্টুন এবং ব্যানার এর মাঝে পার্থক্য সঠিক ভাবে অনুধাবন করিতে পারেন নি। আমার নির্বাচনী প্রচারনায় এখন পর্যন্ত কোন ফেস্টুন ব্যবহার করা হয়নি। আপনারা যে সকল প্রচারনার বস্তুকে ফেস্টুন বলিয়া দাবী করতেছেন, তা আসলে ফেস্টুন নয় এগুলোকে ব্যানার বলা হয়। একটি ব্যানার সমান্তরাল (Horizontal) অথবা উলম্ব (Vertical) (লম্বালম্বী) হইতে পারে। ফেস্টুন (Festoon) এবং ব্যানার (Banner) ইংরেজি শব্দ বিধায় ফেস্টুন এবং ব্যানারের সংজ্ঞা ইংরেজি অবিধান হইতে সংগ্রহ করিয়া ফেস্টুন এবং ব্যানারের ছবি সহ উদাহরন এই জবাবের সাথে সংযুক্ত করা হল (সংযুক্তি ১ এবং ১(ক))। আশাকরি তা যথার্থ ভাবে অনুধাবন করলে এই ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটবে।
(৩) আমাদের প্রচারনায় ব্যানারের সাইজ অনধিক ১০ ফুট × ৪ ফুট যা আচরন বিধির ৭(ঙ) বিধি অনুযায়ী বিধি সম্মত। আমরা ৩টি সাইজের ব্যানার তৈরী করেছি ১০ ফুট × ৩.৫ ফুট, ৭ ফুট × ৩ ফুট, ৫ ফুট X ৩ ফুট। কাজেই আচরন বিধিমালার ৭(৫) বিধি অনুযায়ী ব্যানারের সাইজের কোন লংঘন হয় নি। কাজেই আমাদের বিধি সম্মত ব্যানারকে ফেস্টুন দাবী করে তাহা ভাংচুর সহ অপসারন করা আইনসিদ্ধ হয়নি।
(৪) এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য যে, জনৈক মোঃ সাহেব আলী গত ২২/০১/২০২৬ তারিখে রাত ১০.১১ ঘটিকায় আপনার অফিসিয়ালি ব্যবহৃত হোয়াটস্অ্যাপ নম্বরে এবং ২৩/০১/২০২৬ তারিখ বেলা ১১.৩০ ঘটিকায় স্বশরীরে নির্বাচন বিধিমালা লংঘনের বিষয়ে আপনার দপ্তরে ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ (সংযুক্তি-০২) দায়ের করলে, আপনার অফিস উক্ত অভিযোগটিকে আমলে নিয়া সময়মত ১০ দলীয় জোট প্রার্থীর আচরণ বিধি লংঘনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়। গত ২৩/০১/২০২৬ ইং তারিখ সকাল ৯ ঘটিকা হতে দুপুর ১ ঘটিকা পর্যন্ত ১০ দলীয় জোট প্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামী জোটের জনসভা অনুষ্ঠিত হয় এবং তোরণ সমূহ ২৩/০১/২০২৬ তারিখ রাত পর্যন্ত অক্ষত থাকে। উল্লেখ্য এই যে, ১০ দলীয় জোট প্রার্থীর নির্বাচনী আচরন বিধিমালা ৭(৩) লংঘন করিয়া করতোয়া ব্রীজের উপর রঙ্গিন ব্যানার স্থাপন করেন (সংযুক্তি ০৩)।
(৫) আপনার কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহন মিনজি ২৩/০১/২০২৬ রাত ১০ ঘটিকার দিকে করতোয়া ব্রীজের উপর স্থাপিত বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর ব্যানার সমূহ ভাংচুর করিয়া অপসারন শুরু করেন। এই সময়ে ১০ দলীয় জোট প্রার্থীর রঙ্গিন ব্যানার সমূহ বিএনপি প্রার্থীর সাদা-কালো ব্যানারের সাথে সহঅবস্থান করিতেছিল। একপর্যায়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সাদা-কালো ২০-৩০টি ব্যানার ভাংচুর করিয়া অপসারণ করার পরে বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে প্রতিয়মান হয় যে, শুধুমাত্র বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর ব্যানার ভাংচুর করা হইতেছিল। এতে পরিষ্কার হইয়া যায় যে, প্রশাসন পক্ষপাত দুষ্ট হয়ে শুধুমাত্র বিএনপির ব্যানার সমুহকে অপসরনের নামে ভাংচুর করিয়া বিএনপির এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি এবং ভাবমুর্তি বিনষ্ট করার অপপ্রয়াস চালাইছে (সংযুক্তি ০৪)।
এসময় তারা আপনার কর্মকর্তা মোহন মিনজিকে জিজ্ঞাসা করে যে নির্বাচনি আচরনবিধি মোতাবেক রঙ্গিন ব্যানার ব্যবহার করা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন আমাদের ব্যানারের সাথে সহ অবস্থানরত ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীর রঙ্গিন ব্যানার একই ভাবে অপসারন করিতেছিলেন না? এই প্রশ্নের জবাবে আপনার কর্মকর্তা মোহন মিনজি দাবী করে যে, রঙ্গিন ব্যানার ব্যবহার করিয়া ১০ দলীয় জোট প্রার্থী কোন রকম বিধি লংঘন করেন নাই এবং রঙ্গিন ব্যানারের ব্যবহার আচরন বিধিমালার বিধি মোতাবেক আইনসিদ্ধ। আপনার কর্মকর্তার জবাব আচরণ বিধি সম্পর্কে এমন অজ্ঞতা প্রকাশ করলে, উপস্থিত বিএনপি সমর্থক এবং নেতা-কর্মীদের হতবিহবল এবং
রাগান্বিত করে তোলে।
(৬) আইনের এই অসমপ্রয়োগের বিরুদ্ধে তারা তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ জানায়। উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহন মিনজিকে ১০ দলীয় জোট প্রার্থীর তোরণ ও রঙ্গিন ব্যানার না অপসারন করার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। উপস্থিত বিএনপি নেতা-কর্মীরা আইনের এই অসমপ্রয়োগের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং দাবী করে যে, ব্যানার অপসারন করিতে হলে উভয় দলেরই ব্যানার সমূহকে অপসারন করতে হবে। এমতাবস্থায় আপনার কর্মকর্তা ১০ দলীয় জোট প্রার্থীর ব্যানার সমূহ অপসারন করিতে অপারগ হলে বিএনপির উপস্থিত কর্মীবৃন্দ তাকে শুধুমাত্র বিএনপির ব্যানার অপসারন না করতে অনুরোধ
করেন।
(৭) ৩নং দফায় বর্ণিত অভিযোগের বিপরীতে আমাদের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন,আমদের নির্বাচনী প্রচারনার পরিকল্পনা আমরা যথাসময়ে আপনার দপ্তরে দাখিল করেছি এবং একই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডি সমূহ সংযুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলেও ভুল বশতঃ তা সংযুক্ত করা হয় নাই। অদ্য এই জবাবের সাথে তা দাখিল করিলাম (সংযুক্তি-০৫)।
(৮) ৪নং দফায় বর্ণিত অভিযোগের বিপরীতে আমাদের ব্যাখ্যায় বলেন, উপরোল্লেখিত ঘটনায় আপনার কর্মকর্তার পক্ষপাত দুষ্ট আচরন আমাদের নেতা-কর্মীদের গণতান্ত্রিক মানসিকতায় আঘাত হানে। আপনার কর্মকর্তার পক্ষপাত মূলক আচরণের প্রতিবাদে তারা এবং এলাকার সাধারণ সমর্থকবৃন্দ তৎক্ষনাত একটি প্রতিবাদ মিছিল করে। উক্ত মিছিলটি করতোয়া ব্রীজ হইতে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসে শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাপ্ত হয়। প্রতিবাদ করা একটি সাংবিধানিক অধিকার। সংবিধানের ৩৭ এবং ৩৯ ধারায় সাধারনের এই অধিকারকে সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। মানবাধিকারের সর্বজনীন। ঘোষনাপত্র (Universal Declaration of Human Rights UDHR) এর ১৯ এবং ২০ ধারায় প্রতিবাদ এবং মিছিলের অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে। কে বা কারা সরকারি গণভোটের প্রচারনার ব্যানার ছেড়ার হুমকি প্রদান করেছেন তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নহে। যখন নাগরিকগন তাদের নাগরিক অধিকার লংঘনের আশংকার কারণে ব্যতিব্যস্ত হয়ে তৎক্ষনাত গভীর রাতে মিছিল করার আশ্রয় নেয়, তখন বুঝতে হবে যে,নিশ্চয় তাদের আশংকার কারণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের প্রতিবাদ যথাযথ। যেহেতু এখানে কোন পূর্ব পরিকল্পনা ছিল না সেহেতু ইহা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, এখানে শান্তিভঙ্গের কোন পূর্ব পরিকল্পনা ছিল না।
উপরোল্লোখিত আলোচনা সাপেক্ষে ইহা পরিষ্কার যে নির্বাচনী আচরন বিধিমালার ৭(৬) অনুযায়ী আমাদের কোন আচরন বিধিমালার লংঘন সংঘটিত হয়নি।
নির্বাচনী আচরন বিধিমালার ৭(গ) অনুযায়ী আমাদের এবং অন্যান্য প্রার্থীদের ব্যানারও একই জায়গায় পাশাপাশি ইলেকট্রিক পোলের সাথে সংযুক্ত ছিল। কিন্তু আপনার কর্মকর্তা আমাদের ব্যানার ভাংচুর করিয়া অপসারন করিলেও ১০দলীয় জোটের প্রার্থী ৭(৩) বিধি বর্হিভূত রঙ্গিন ব্যানার অপসারন করেননি বরং তার ব্যানারটি আইনসিদ্ধ বলে দাবি করেছেন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
নির্বাচনী আচরন বিধিমালার ১৩ নম্বর বিধি মোতাবেক তোরণ নির্মান এর ক্ষেত্রে আমাদের কোন ভূমিকা নাই। আপনার ভুল বশতঃ আমাদেরকে ১৩ বিধি মোতাবেক নোটিশ করেছেন। নির্বাচনী আচরন বিধিমালার ১৫(গ) অনুযায়ী আপনাদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগটির সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরন বিধিমালার ১৬ (ক) এর জবাবে আমরা (সংযুক্তি ০৫) প্রদান করিলাম।
উপরোক্ত ব্যাখ্যা এবং সংযুক্তির পরিপ্রেক্ষিত আনীত অভিযোগ সমূহের দায় হতে অব্যাহতি প্রদান করার আবেদন করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আপনার কর্মকর্তাগণ যেন কোনপ্রকার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ প্রদর্শন না করেন এবং আচরন বিধিমালার সম্পর্কে সঠিক এবং নির্ভুল তথ্য প্রদান করেন।
এই কারণ দর্শানো নোটিশের জবাবের অনুলিপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে পাঠানো হয়েছে।
এসময় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল, পৌর বিএনপির নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন রনিক, সাবেক জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইউনুস সেখ, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মানিক পৌর যুবদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম ইরানসহ বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা ও ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট, অনলাইনের গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।