স্বপ্ন প্রতিদিন রিপোর্ট
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রভাব পড়েছে চালকলের উপর। গত রোববার সকালে কেন্দ্রের একমাত্র সচল ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম এই বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনহীন। এর প্রভাব পড়েছে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহে, বাড়ছে লোডশেডিং, বিপাকে পড়েছেন কৃষক, চালকল ও শিল্পকারখানার মালিকরা। সরকারের পক্ষ থেকে এই সমস্যা সমাধানে কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় উত্তরের বিভিন্ন জেলায় ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে চালকলসহ বিদ্যুৎনির্ভর শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে পরিচালন ব্যয়। বোরো ধান আবাদের মৌসুম শুরু হওয়ায় কৃষকরাও পড়েছেন বড় দুশ্চিন্তায়। তারা প্রয়োজনীয় সেচ দিতে পারছেন না। এতে উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিট বন্ধ আছে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর প্রথম ইউনিটও বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৪ জানুয়ারি তা চালু হলেও মাত্র চার দিন উৎপাদনের পর রোববার বেলা ১১টার দিকে আবার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বর্তমানে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটই বন্ধ।
জানা গেছে প্রথম ইউনিটের বয়লারের পুরো টিউব ফেটে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। প্রায় এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বয়লারটি ঠান্ডা হলে মেরামতের কাজ শুরু হবে। তবে কবে নাগাদ আবার উৎপাদনে ফেরা যাবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রথম ইউনিটটি প্রায় ২০ বছর পুরোনো হওয়ায় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানাঔের সংস্কাওে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছেনা।
এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রোববার থেকে কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ থাকায় সোম ও মঙ্গলবার বিভিন্ন জেলায় ঘন ঘন লোডশেডিং হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। দোকান ও কারখানায় কাজ বন্ধ থাকার উপক্রম। কৃষকরা জানান, বোরো ধানের চারা বড় হয়ে গেছে, শিগগিরই রোপণের সময়। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে সেচ ও আবাদ ব্যাহত হবে, ফলে খরচ বাড়বে এবং উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়বে।
দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক শহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চালকল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে, যা বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা কঠিন করে তুলছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান তিনি।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, প্রথম ও তৃতীয় ইউনিট চালু রাখতে নভেম্বর থেকেই কাজ চলছিল। তবে যন্ত্রাংশের জটিলতা ও বড় ধরনের কারিগরি সমস্যার কারণে কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে সমাধান সম্ভব না হওয়ায় চীনা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় মেরামত কাজ চলছে। কবে নাগাদ বিদ্যুৎকেন্দ্র আবার চালু হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।






