কলা একটি পুষ্টগুনে ভরপুর, সারা বছর পাওয়া যাওয়া ফল যা Musaceae (মুসেসি) পরিবারের অন্তর্গত এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল। এটি শর্করা,ফাইভার,পটাশিয়াম ভিটামিন B6, ও C এর চমৎকার উৎস এবং শক্তি যোগায়,যা একে একটি আদর্শ খাদ্য হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।কলাকে ফলের রানী বলা হয় এর উৎপাদন স্বাদ ও সুগন্ধের জন্য।কলা শক্তি প্রকৃতির এমন এক উপহার, যা স্বাদে রঙে পুষ্টিগুণে ভরপুর। স্বাস্থ্যকর বিধায় কলা বাঙালীর প্রিয় একটি ফল। আর এই মনলোভা ফল কলা নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলায় চাষ হয় ব্যপকহারে।
পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের চরসিন্দুর বাজারে সপ্তাহে দুইদিন হাটবার এলেই সরগরম হয়ে উঠে।প্রতি শুক্রবার ও মঙ্গলবারে সুর্যোদয়ের সাথে সাথে চরসিন্দুর বাজারে কলার হাট বসে। দুপুর গড়াতে গড়াতেই বেচাকেনা শেষ শতশত কলাচাষী তাদের উৎপাদিত কলার ছড়া নিয়ে আসে কলার হাটে। খুচরা বিক্রেতা,পাইকার রা আসে কলা কিনতে। শুধু এলাকার ক্রেতা নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা হতে পাইকাররা আসে ট্রলি, ভ্যান বা ট্রাক নিয়ে কলা ক্রয় করতে। কলা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে পুরো বাজার এলাকা। দেশের অন্যান্য জেলার ব্যাপারীরা এ হাট থেকে কলা কিনে বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করে থাকেন। চরসিন্দুর বাজারের কলার হাটটি প্রায় ২০০শত বছরের আগের পুরনো হওয়ায় কলার হাট ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছে বেশ পরিচিত।
পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার বলেন, পলাশে চলতি মৌসুমে ৩৯১হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে। যা গতবারের চেয়ে বেশি। ধারনা করা হচ্ছে এ বছর ১৫০০০ মেট্রিক টন কলা উৎপাদিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন এই বছর পলাশ উপজেলায়, অমৃত সাগরকলা -১১৬হেক্টর জমিতে , চাপা কলা-১১৮ হেক্টর, কবরী- ৬০হেক্টর,এঁটে কলা – ২ হেক্টর, গেড়া শংকরি -৬০হেক্টর ও অন্যান্য ৩৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ করা হয়েছে । তবে অমৃত সাগর কলার জন্য এ উপজেলা বিখ্যাত। কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার আরোও জানান আমরা কলা চাষীদের বিভিন্ন সময়ে কলাচাষের সুফল পেতে মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও রোগ বালাই প্রতিকারে পরামর্শ দিয়ে থাকি এবং চাষাবাদে থাকে নিবীড় পর্যবেক্ষণ আমাদের। এছাড়া জি- নাইন টিস্যু কালচার -১ জাতিয় কলা চাষে কলাচাষীদের উদ্বুদ্ধ করি। কারণ এই জাতটা বেশি ফলনশীল ও লাভবান। এবছর এক হেক্টর জমিতে জি- নাইন কলা চাষ করা হয়েছে।
কলা চাষি মোঃ- আফাজ উদ্দিন বলেন, চলতি বছর আমি ১১ একর জমিতে কলা চাষ করেছি। এবছর দামটাও ভালো পাচ্ছি। প্রতিছড়া কলা তিনশো থেকে পাঁচশ টাকা বিক্রি করেছি। কলা চাষ করে ভালো লাভবান হয়েছি। ব্যাপারীরা জানান, প্রতিকাঁদি কলা দুইশত থেকে পাঁচশ টাকায় বিক্রি হয়। ছোট আকারের কলা প্রতিকাদি দেড়শ টাকা, মাঝারি আকারের কাঁদি তিনশ টাকা, বড় আকারের কাঁদি সাড়ে চারশো থেকে পাঁচশ টাকায় বিক্রি হয় । ফর্মালিন মুক্ত এবং একদম দেশি কলা বেশি বিক্রি হয়।
চরসিন্দুর বাজারে ঢাকা হতে আগত পাইকারি ক্রেতা -মোঃআকবর আলী বলেন, চরসিন্দুর কলার বাজার আমি ছোট থেকেই দেখছি বাবার সাথে এসে। এখন আমি নিজেই আসি ট্রাক নিয়ে কলা ক্রয় করতে। ব্যবসায়ি সুমন বলেন চরসিন্দুর ইউনিয়ন,শিবপুর ও কালিগঞ্জ উপজেলার কলা চাষিরাও কলা বিক্রি করতে আসে এখানে। এ কলার বাজার আমাদের ঐতিহ্য। কলার মান ভালো হওয়ায়, বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে ব্যাপারিরা এসে এ বাজারে কলা ক্রয় বিক্রয় করে থাকে। চরসিন্দুর কলার বাজারের আরেকজন ব্যবসায়ি বলেন।
এ অঞ্চলের কলার সুনাম থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে কলা কিনে থাকেন। মূলত কলাচাষি ও ছোট ব্যবসায়ীরা এ হাটে কলা আমদানি করে থাকেন। সপ্তাহে প্রতি শুক্রবার ও মঙ্গলবার এ হাট বসে। আশে পাশের সকল জেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় দিনদিন এ হাট জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রতিহাটে এ বাজারে প্রায় ৩০ লাখ টাকার কলা বেচাকেনা হয়।এদিকে অনেক দর্শানার্থীরা আসেন নয়নাভিরাম চরসিন্দুর বাজার কলার হাট দেখতে।।