সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর আগেই কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে প্রশ্নফাঁস চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের মধ্যে এক সেচ্ছাসেবক দল নেতা, প্রকৃত পরীক্ষার্থী ও ভুয়া পরীক্ষার্থী (প্রক্সি) রয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। ৯ই জানুয়ারি, শুক্রবার দুপুরে দুটি পৃথক অভিযানে উপজেলা শহরের কাজি মার্কেটের পেছনের একটি বাসা এবং থানার সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। তবে উদ্ধার করা প্রশ্নপত্রের ফটোকপির সঙ্গে পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্রশ্নপত্রের মিল আছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, আটক সেচ্ছাসেবক দল নেতার নাম মিনারুল ইসলাম। তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।
অন্য আটকদের পরিচয় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশের তথ্যমতে, পরীক্ষা শুরুর আগে দুপুরে কাজি মার্কেটের পেছনের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে মিনারুল ইসলামসহ ৬ জনকে আটক করা হয়। তারা প্রশ্নপত্রের ফটোকপি ব্যবহার করে উত্তর প্রস্তুত করছিলেন। এদের মধ্যে চারজনকে প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্য বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পরে থানার সামনে একটি গাড়ি থামিয়ে চালকসহ আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়। তারা প্রশ্নপত্রের ফটোকপি ও ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যেও প্রকৃত ও ভুয়া পরীক্ষার্থী রয়েছে।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জানান, আটক মিনারুল ইসলাম তাদের কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং একই সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সদস্য। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি উপজেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
পুলিশ সুপার বলেন, আটকদের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও প্রক্সি পরীক্ষার্থী রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।