ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে দেশটিতে সর্বাত্মক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট আরোপ করা হয়েছে। অনলাইন মনিটরিং গ্রুপ নেটব্লকস জানিয়েছে, ৮ই জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার থেকে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা বিক্ষোভকারীদের যোগাযোগ ব্যাহত করছে এবং সরকারের ডিজিটাল সেন্সরশিপের অংশ।
ডিসেম্বরের শেষ থেকে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ এখন দেশের ১১০টির বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। রিয়াল মুদ্রার রেকর্ড অবমূল্যায়ন (১ ডলার = ১.৫ মিলিয়ন রিয়ালের কাছাকাছি), মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে জনরোষ ফুঁসে উঠেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুসারে, নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়নে অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি নিহত হয়েছেন (যার মধ্যে শিশু রয়েছে), এবং হাজারের বেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা ‘মৃত্যু খামেনির’, ‘মৃত্যু ডিক্টেটরের’ স্লোগান দিচ্ছেন, যা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে।
সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ বলে অভিহিত করে ‘দাঙ্গাকারীদের জায়গায় রাখার’ নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিক্ষোভকারীদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করেছেন।
দেশের প্রধান বিচারপতি ঘোষণা করেছেন, ‘অনিরাপত্তা সৃষ্টিকারীদের’ প্রতি কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার স্বীকার করে নিরাপত্তা বাহিনীকে ‘সংযম’ দেখাতে বলেছেন এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন (যেমন সাবসিডি বৃদ্ধি, বেতন বাড়ানো)।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিক্ষোভ-সংক্রান্ত হতাহত রোধে আহ্বান জানিয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার কথা বলেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে।
পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। সরকার অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু বিক্ষোভের রাজনৈতিক চরিত্র এবং দমনপীড়ন এটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।