ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে আলোচনা গত কয়েকদিনে অনেক বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তেমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইরানের প্রধান তেল কেন্দ্র খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্য করে এই স্থল অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র – এমন সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে এমন স্থল অভিযানে নামলে সেটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এবং হতাহতদের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন একজন সামরিক বিশ্লেষক।
অস্ট্রেলিয়ার স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বিশ্লেষক ম্যালকম ডেভিস সিএনএন-এর বেন হান্টকে বলেন, ‘আমার মনে হয় ইরানিরা সম্ভবগত খার্গ দ্বীপে বসে থেকেই আমেরিকানদের আক্রমণ করতে পারে, আর তা হলে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকবে।’
ডেভিসের মন্তব্যটা আসছে এমন সময়ে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিশ্র সংকেত দিচ্ছেন। একদিকে শান্তির অগ্রগতির কথা বলছেন, অন্যদিকে সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়েও ভাবছেন ট্রাম্প। ইরানের তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই পরিচালিত হয় খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে।
সিএনএন লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে এমন স্থল অভিযানের সম্ভাবনা মাথায় রেখে ইরান ইতিমধ্যেই সাবধানতা অবলম্বন করছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা ফাঁদ বসাচ্ছে এবং অতিরিক্ত সেনা ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খার্গ দ্বীপে সরিয়ে নিয়েছে।
ডেভিস আরও সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য স্থল অভিযান আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শুরু করতে পারে, যা কূটনৈতিক অগ্রগতি বা যুদ্ধের শেষ টানার মতো কোনো চুক্তির আলোচনাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ‘শান্তি আলোচনা এবং যুদ্ধ শেষ হওয়ার আলাপগুলো বিশ্বাসযোগ্য নয়, বড়জোর এসব আলাপকে আগ বাড়িয়ে বলা কথাই ধরে নেওয়া যায়। এক সপ্তাহের মধ্যে হয়তো (মার্কিন) স্থল বাহিনী লড়াইয়ে প্রবেশ করবে, তাই কেউ বলতে পারবে না এটি (ইরানে যুদ্ধ) শান্তির দিকে এগোচ্ছে’ – বলেছেন ডেভিস।






