বেলুচিস্তান হচ্ছে পাকিস্তানের ৪৪% ভূখণ্ড।
শুধু তাই নয়। পাকিস্তানের বেশিরভাগ শষ্য এখানে উৎপাদিত হয়। এছাড়াও সবগুলো অর্থনৈতিক সূচকে পাকিস্তানের অর্থনীতির বড় অংশ এই বেলুচিস্তানের উপর নির্ভরশীল।
পাকিস্তানের জনসংখ্যা ২৪ কোটি। আর বেলুচিস্তানের জনসংখ্যা দেড় কোটি।
অর্থাৎ, এই দেড় কোটি জনসংখ্যার ৪৪% ভূখণ্ড পুরো পাকিস্তানের ২৪ কোটির বড় একটা ভার বহন করে যাচ্ছে।
চীনের প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগকৃত গওদর বন্দরও বেলুচিস্তানের সমুদ্রতীরে। এখান থেকেই চীন সড়ক এবং পাইপলাইন টেনে নিয়েছে জিনজিয়াং পর্যন্ত।
পাকিস্তানের নিজস্ব কোনো জাতিসত্তা নেই।
কয়েকটা জাতির সমন্বয়ে ভৌগোলিক সীমা নির্ধারিত।
বলা হয়ে থাকে – ক্রিকেট খেলা বন্ধ হলে পাকিস্তান কমপক্ষে ৪ টুকরা হয়ে যাবে। অর্থাৎ, ক্রিকেটই তাদেরকে একটা বায়বীয় জাতিগত ধারণায় আটকে রেখেছে।
কিন্তু এই জাতিগুলোর মধ্যে সবসময় দ্বন্দ্ব সংঘাত লেগে থাকে। সবচেয়ে বেশি সংঘাত হয় বেলুচদের সাথে।
বেলুচ জাতিকে নিয়ে পাকিস্তান মারাত্মক বিপাকে আছে।
যেকোনো সময় যেকোনো কিছু ঘটে যাওয়া বিচিত্র কিছু নয়।
বেলুচ মূলত একটা ইরানি জাতি।
ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চল এবং পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এই জাতি।
বেলুচিস্তান একসময় স্বাধীন দেশ ছিলো।
পরে পাকিস্তান তাদের ভূখণ্ড দখল করে পাকিস্তানের অধীনস্থ করে নেয়। সেই থেকে সংঘাত কখনোই থামেনি। তারা তাদের হারানো স্বাধীনতা ফিরে পেতে চায়।
ইরান – আফগানিস্তান তাদেরকে সাহায্য করতে পারতো। কিন্তু তাদেরও ভয় আছে – এই জাতিগত চেতনা একদিন ইরান অংশ এবং আফগান অংশও দাবি করতে পারে।
পারে নয়, চাচ্ছেও।
ইরান এবং আফগানিস্তানের বেলুচরাও পাকিস্তানের বেলুচদের সাথে একাত্মতা বোধ করেন।
পাকিস্তান কর্তৃক বেলুচিস্তান দখল হওয়ার পর থেকে অসংখ্য বেলুচ জীবন দিয়েছেন তাদের স্বাধীনতা ফিরে পেতে।
তারা তাদের সেইসব শহীদদের ভুলে যায়নি।
বরং, আমরা বাঙালিরা আমাদের বীরদের ভুলে গেছি বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি।
মূলত – পৃথিবীর কোথাও অতীত অস্বীকার করা কাপুরুষদের জন্য সম্মান বরাদ্দ থাকে না।