শাহিন আলম আশিক
ইতিহাস সাক্ষী, যখনই কোনো তরুণ প্রাণ ন্যায়ের কথা বলেছে, যখনই কোনো কণ্ঠস্বর শোষণের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে, তখনই তাকে স্তব্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি ছিলেন তেমনই এক নির্ভীক স্পর্ধা। তার মৃত্যু কেবল একটি জীবনের অবসান নয়, বরং এটি আমাদের রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর সামনে এক বিশাল প্রশ্নচিহ্
বিচারহীনতার ধারাবাহিকতা:
——————————————
সাগর-রুনি থেকে আবরার
হাদির হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি সেই দীর্ঘ শৃঙ্খলের অংশ, যেখানে সত্যের কণ্ঠরোধ করাটাই অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা ভুলিনি সাংবাদিক সাগর-রুনির কথা, যাদের হত্যাকাণ্ডের বিচার এক যুগেও হয়নি। আমরা ভুলিনি সিলেটের জননেতা ইলিয়াস আলীকে, যাকে গুম করে একটি রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরকে চিরতরে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা ভুলিনি বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে, যাকে নিছক দেশপ্রেমের কথা বলায় পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
এমনকি প্রবীণ সাংবাদিক ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর দফায় দফায় হামলা এবং দীর্ঘ কারানির্যাতন প্রমাণ করে যে—কলম হোক বা রাজপথ, শোষকের ভয়ের কারণ একটাই: সত্য। আজ হাদিকে কেন মরতে হলো? কারণ তিনি এই আপসহীন ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী ছিলেন।
শহিদ হাদি চত্বর: প্রতিরোধের নতুন মানচিত্র
————————————————
শাহবাগের যে মোড়ে দাঁড়িয়ে হাদি একদিন ইনসাফের কথা বলতেন, আজ সেই চত্বর তার স্মৃতিতে ‘শহিদ হাদি চত্বর’ হিসেবে পুনর্জন্ম নিয়েছে। এটি কেবল একটি জায়গার নাম বদল নয়; এটি প্রতিরোধের একটি নতুন মানচিত্র। আগামীকালকের জমায়েত কেবল একটি শোকসভা নয়, এটি শোষকদের প্রতি এক চরম হুঁশিয়ারি। প্রতিটি মিছিলে আজ আবরারের দেশপ্রেম, ইলিয়াস আলীর নিরুদ্দেশ বেদনা এবং হাদির নির্ভীকতা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।
আমাদের দাবি কোনো দয়া নয়, অধিকার
আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার কোনো দয়া বা অনুকম্পা নয়; এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।
বিশেষ ট্রাইব্যুনাল:
—————————
সাগর-রুনি বা হাদির মতো প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করতে হবে।
জবাবদিহিতা: তদন্তে কোনো প্রকার কালক্ষেপণ বা অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না।
আইনগত সুরক্ষা:
—————————
সত্য বলার অপরাধে আর কোনো প্রাণ যেন অকালে ঝরে না পড়ে, তার রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা চাই।
যারা ভেবেছিলেন হাদিকে সরিয়ে দিলেই ইনকিলাব মঞ্চ দমে যাবে, তারা ইতিহাসের পাঠ নিতে ভুল করেছেন। একজন আবরারকে মেরে যেমন হাজারো দেশপ্রেমিক তৈরি হয়েছে, একজন হাদির রক্ত থেকেও আজ লক্ষ হাদি জন্ম নিচ্ছে। আগামীকালকের ‘শহিদ হাদি চত্বর’ প্রমাণ করে দেবে—বিপ্লবের কণ্ঠরোধ করা যায় না। শোষকের বুলেট হার মানবে তরুণদের এই বজ্রকণ্ঠে। হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেব না; এই লড়াই ইনসাফ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত চলবে।