1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পার্বতীপুরের ১০ নং হরিরামপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির স্ত্রী স্ট্রোকজনিত কারণে অকাল প্রয়াণ, জানাজায় রাজনৈতিক ও শিক্ষা নেতাদের উপস্থিতি কূটনৈতিক নিয়োগ নাকি রাজনৈতিক বার্তা: ঢাকায় প্রথম ভারতীয় মুসলিম রাষ্ট্রদূত ‘হায়াল্লা খালেদ’ খ্যাত আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে কয়েক শত কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ জাতির পিতার পরিবারের বিশেষ নিরাপত্তা আইন বাতিল, সংসদে বিল পাস রাজশাহী মেডিকেলে এক মাসে ৯১ শিশুসহ ২২৯ রোগীর মৃত্যু: আইসিইউ শয্যাসংকট দেশের ৩০ ভাগ এলপিজি স্টেশন বন্ধ: সরবরাহ ঘাটতি ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর গ্রেপ্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক নাগরিক অধিকার সংস্থা জোটের নিন্দা-উদ্বেগ গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের নির্মাণকাজ ৮ বছরেও শেষ হয়নি: ৯৩ কোটি থেকে ব্যয় বেড়ে ১১২ কোটি নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন তামিম প্রতিহিংসার রাজনীতি কেড়ে নিলো ছাত্রলীগ নেতার মমতাময়ী মায়ের জীবন

কূটনৈতিক নিয়োগ নাকি রাজনৈতিক বার্তা: ঢাকায় প্রথম ভারতীয় মুসলিম রাষ্ট্রদূত

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৮ সময় দর্শন

স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক

ভারত সরকার বাংলাদেশে নিজেদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে আরিফ মোহাম্মদ খানকে নিয়োগের বিষয়ে গুরুতর আলোচনা করছে। যদি এই নিয়োগ চূড়ান্ত হয়, তাহলে এটি হবে বাংলাদেশে ভারতের প্রথম মুসলিম রাষ্ট্রদূত।

বর্তমান রাষ্ট্রদূত প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় রয়েছে।

আরিফ মোহাম্মদ খান (জন্ম: ১৮ নভেম্বর ১৯৫১, বুলন্দশহর, উত্তর প্রদেশ) একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং প্রশাসক। আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় ও লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করে তিনি ছাত্রজীবন থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৭৭ সালে প্রথম বিধায়ক নির্বাচিত হন, পরে লোকসভার সদস্য এবং একাধিকবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কেরালা ও বিহারের গভর্নরের দায়িত্বও সামলেছেন।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় শাহ বানো মামলা। লোকসভায় দাঁড়িয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পক্ষে প্রগতিশীল বক্তব্য রাখেন, যা মুসলিম সমাজে সংস্কারের আলোড়ন তৈরি করে। কিন্তু কংগ্রেস সরকার রাজনৈতিক চাপে রায় উল্টে দেওয়ায় তিনি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন।

এই সিদ্ধান্ত তাঁকে “পদের চেয়ে অবস্থানকে” গুরুত্ব দেওয়া রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত করে।

তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা বৈচিত্র্যময়: ভারতীয় ক্রান্তি দল থেকে কংগ্রেস, জনতা দল, বিএসপি হয়ে সর্বশেষ বিজেপিতে যোগদান। এবার যদি তিনি ঢাকায় আসেন, তাহলে এটি দীর্ঘদিন পর একজন রাজনীতিবিদকে (ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাটের পরিবর্তে) রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগের নজির হবে। শোনা যাচ্ছে, তাঁকে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েই পাঠানো হতে পারে।

প্রশ্ন উঠছে: কেন এই নিয়োগ?

আরিফ মোহাম্মদ খানকে বাংলাদেশে পাঠানোকে অনেকে শুধু কূটনৈতিক নিয়োগ নয়, বরং একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন।

আগস্ট ২০২৪-এর পর বাংলাদেশে যে চরম উগ্রবাদী ইসলামপন্থিদের উত্থান শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে—সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, মন্দির-বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, নারীদের ওপর সহিংসতা এবং ধর্মীয় চরমপন্থার উত্থান—তা মোকাবিলা করার জন্যই কি ভারত এমন একজন হাই-প্রোফাইল মুসলিম রাজনীতিবিদকে ঢাকায় পাঠাতে চাইছে? এমন প্রশ্ন ইতিমধ্যে দেখা দিয়েছে।

প্রগতিশীল মুসলিম হিসেবে খ্যাত আরিফ খানের মাধ্যমে কি ভারত সফট পাওয়ার প্রয়োগ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় চরমপন্থা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি বার্তা দিতে চায়? নাকি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুন করে সাজানোর কৌশলগত পদক্ষেপ এটি?

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ নিশ্চিত করেনি। তবে যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

আরিফ খানের চিরায়ত প্রগতিশীল অবস্থান বিবেচনায়, বাংলাদেশে তাঁর উপস্থিতি কতটা কার্যকর হবে এবং তিনি সেখানকার বাস্তবতায় কোন এপ্রোচ নেবেন—তা নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই নিয়োগ যদি চূড়ান্ত হয়, তবে প্রশ্ন থেকেই যায়: আগস্ট ২০২৪-এর পরবর্তী বাংলাদেশের উগ্র ইসলামপন্থিদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত কি ধর্মীয় পরিচয়কে কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে? নাকি এটি শুধুই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের প্রচেষ্টা? সময়ই বলে দেবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host