1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন

ঢাকা -১৭ আসন থেকে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট-বিএনএফ এর টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মজলুম এসএম আবুল কালাম আজাদ

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬ সময় দর্শন
মজলুম এসএম আবুল কালাম আজাদ

স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক »
১৯৫৪ সালের ১লা নভেম্বর চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলায় (সাবেক হাওলা) পোপাদিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা-মরহুম সৈয়দ নূর আহমেদ এবংমাতা মরহুমা সৈয়দা কুলসুমা খাতুন। ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম হযরত শেখ সিরাজ উদ্দিন ( রাঃ আঃ) আউলিয়ার আওলাদ ঐতিহ্যবাহী ‘আদু খন্দকার’ বাড়ির মরহুম সৈয়দ আব্দুল করিম খন্দকার তাঁর পিতামহ এবং বোয়ালখালী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের মরহুম সৈয়দ আলী আহমেদ শরীফ (শরীফ বাড়ি) তাঁর মাতামহ। ১৯৭১ সালে তাঁর পিতা তাঁর তিন সন্তানকে মহান মক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করেন। তাঁর মাতা সৈয়দা কুলসুমা খাতুন মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজ বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং

তাঁর দুই মেয়ে এই কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেন।
এস এম আবুল কালাম আজাদ প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতিতে যোগদান করেন ১৯৬৭-৬৮ সালে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালের ৪ঠা ডিসেম্বরে তিনি পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত মওলানা ভাসানীর জনসভায় “স্বাধীন বাংলা-পূর্ব বাংলার” স্লোগান তোলেন।
১৯৭১ সালের ৩০শে মার্চ-এ অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাথে তিনি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন । ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল পাক-বাহিনী কালুরঘাটে সেনা, নৌ ও বিমান হামলা চালায়। এই যুদ্ধের নেতৃত্বে ছিলেন অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক মেজর মীর শওকত আলী (পরবর্তী সময়ে লে. জেনারেল মীর শওকত আলী বীরউত্তম)। পরবর্তী সময়ে ১নং সেক্টরে মেজর রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম-এর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ছাত্র জীবনে পূর্ব-বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করার কারণে তাকে আইয়ুব সরকারের রোষানলে পড়তে হয়েছে। জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সামরিক আইন লঙ্ঘনের কারণে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা বা হুলিয়া নিয়েও তদানিন্তন পূর্ব-বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন।
তিনি কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে চট্রগ্রামস্থ সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭০ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি এবং একই বোর্ডের অধীনে কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোষ কলেজ থেকে ১৯৭২ সালে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৭২ সালে চট্রগ্রাম সরকারি কলেজে বিএ পাস কোর্সে ভর্তি হয়ে রাজনৈতিক কারনে চট্রগ্রাম ত্যাগ করেন।পরবর্তীতে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি এবং “পলিটিক্যাল সাইন্স”-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭২ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তিনি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন-পূর্ব বাংলা ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং ন্যাপ-এর ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে পরিচালিত ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চে তিনি ছাত্রসমাজের অন্যতম নেতা হিসেবে নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং তিনি লং মার্চ পরিচালনা কমিটির সাথে যুক্ত ছিলেন।

১৯৭৮ সনে তিনি জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠন, প্রেসিডেন্ট জিয়া ও মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার সঙ্গে থেকে ৩ রা জুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ৩০ শে জুন প্রেসিডেন্ট জিয়া ফ্রন্ট মন্ত্রী সভা বা বহুদলীয় সরকার গঠন করেন । জিয়া হত্যার পর তিনি ‘জিয়া সংসদ’ গঠন করে জিয়ার সমর্থকদের ঐক্য গড়ে তুলতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন। জাস্টিস সাত্তারের নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালে ১৯৮১ সনে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সংস্হা গঠনের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সনে এরশাদ ক্ষমতা দখল করে ঘরোয়া রাজনীতির সময়ে বেগম খালেদা জিয়া কে সমর্থন ঘোষণা করে অন্যান্যদের মধ্যে তিনি বেগম জিয়ার নেতৃত্ব কাজ শুরু করেন। ম্যাডাম জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অবদান রেখেছেন (বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত সংরক্ষিত আছে) । এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ২১৯৮৭- ৯০ সাল পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় জোটে ভাসানী ন্যাপে প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০০৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ভাসানী ন্যাপের সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৭ সালের ৪ ডিসেম্বরে গঠিত বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। ২০০৯ সালে বিডিআর ট্রাজেডির সময়ে চৌকষ সেনাবাহিনী অফিসার হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ন্যাশনাল সিকিউরিটি পার্টি গঠন করেন। অতঃপর তিনি “জিয়া জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট” গঠন করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের ০২রা মে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ নামক দলটি গঠন করেন (এর ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে পরে লিখে শেষ করবো।) পরবর্তীতে দলটি

২০১৩ সালের ১৮ই নভেম্বরে নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন লাভ করে এবং জনাব এসএম আবুল কালাম আজাদ বিএনএফ এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে
তিনি ঐতিহাসিক ভাসানীর হককথা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং রুপকথা বাংলাদেশ নামক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীরা দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। (উল্লেখ্য যে, মূলধারার একটি রাজনৈতিক জোট বিএনএফ এর নিবন্ধনের বিরোধিতা করেছিল।) তিনি বিএনএফ এর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট হিসেবে আজ অবধি দায়িত্ব পালন করছেন’ মহান আল্লাহ লক্ষ্য অর্জন না-হওয়া পর্যন্ত তাঁকে হায়াতের তাইয়্যেবাহ দান করুন ।

২০১৪ সালের ০৫ই জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদের ১৯০ ঢাকা-১৭ আসন থেকে “বিএনএফ’র প্রার্থী হিসেবে টেলিভিশন প্রতীকে” ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্ণেল আবদুল লতিফ মল্লিক’কে ৩৯, ৪৫৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি প্রথম বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪-১৮ সাল পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় সংসদে তাঁর প্রদত্ত বক্তব্যগুলি সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
ঢাকা-১৭আসনের(গুলশান-বনানী-ভাসানটেক-
ক্যান্টনমেন্ট থানা এবং পল্লবী,তেজগাঁও শিল্পান্চল, ভাটারাও কাফরুল থানা আংশিক ) সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

বলাবাহুল্য, জনাব আজাদ দশম সংসদের জোট – মহাজোট বহির্ভূত একমাত্র বিরোধী দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দেশ বিদেশি পরিচিত লাভ করেন।

ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য থাকাকালীন অবস্থায় তিনি থাইল্যান্ড, বাহরাইন, সৌদি আরব ও ইরানে সরকারি সফরে যান। এসময় বিশ্বের অন্যতম খ্যাতিমান থাইল্যান্ডের মাহিদল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ‘’সার্টিফিকেট অফ এচিভমেন্ট’’ লাভ করেন। তিনি বাহরাইনে এশিয়ান পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশনের সভায় দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন, সৌদি আরবে ওমরাহ হজ্ব পালন করেন এবং ইরানে অনুষ্ঠিত পিইউআইসি (ওআইসি)কনফারেন্সে বাংলাদেশের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করেন যা সম্মেলনে সমাদৃত হয়েছে ।তিনি কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশন এবং ওয়ার্ল্ড পার্লামেন্টরি এসোসিয়েশন কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই পুত্রসন্তান ও এক কন্যাসন্তানের জনক। তার সহধর্মিণী মিসেস মমতাজ জাহান চৌধুরী মুন্সীগঞ্জের তাজউদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর (প্রকাশ বড়মিয়া) কনিষ্ঠ ছেলে মরহুম গিয়াস উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (মাখন মিয়া) ও মিসেস নূরজাহান আহমেদ চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ কন্যা।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। জনতা ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।
জ্যেষ্ঠ ছেলে সৈয়দ মাহমুদ আজাদ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। তার একমাত্র কন্যাসন্তান সৈয়দা শারমিন জাহান স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে জার্নালিজমে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন।কনিষ্ঠ পুত্র সৈয়দ মাহবুব হাসান আজাদ ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনির্ভাসিটি বাংলাদেশ (আইইউবি) থেকে এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করেছেন।

তিনি “মেসার্স জাহান ট্রেডার্স ” নামক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন যা ০৬ই আগস্ট, ২০২০ইং তারিখে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড থেকে ট্রেড লাইসেন্স লাভ করে। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে ১ম শ্রেণির ও মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস (এমইএস) এর অধীনে “সি” শ্রেণীর ডেভেলপমেন্ট পার্টনার হিসেবে তালিকাভুক্ত, এছাড়া কনসালটেন্ট ব্যবসার সনদও রয়েছে । জাহান ট্রেডার্স তাঁর পরিবারের সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হলেও বাণিজ্যিক সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হয়ে আর্থিক সংকটে বিপর্যস্হ, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হবে নতুবা ট্যাক্স ভ্যাট অনাদায়ে মামলা মােকাদ্দমার মুখোমুখি হতে হবে। রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা জনাব আজাদ মনে করেন জনগণের অন্ন বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে না পারলে স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে যাবে,স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host