1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন

দেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতির দৃঢ় ঘোষণা

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ সময় দর্শন
বক্তব্য রাখছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংগৃহীত ছবি

স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক »

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘গুমের ঘটনায় জড়িত অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

আজ রোববার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে জোরপূর্বক গুমের শিকারদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় থাকা মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতিও সমবেদনা জানান তিনি।

প্রধান অতিথির ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গুম কোনো সাধারণ অপরাধ নয়; এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। গুম শুধু একজন মানুষকে কেড়ে নেয় না, তার স্বজনদের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বস্তিও কেড়ে নেয়। এটি জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। গুম-খুনের মাধ্যমে এসব অধিকার একসঙ্গে লঙ্ঘন করা হয়।’

বিগত দেড় দশকে গুম ও গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর ভয়াবহতা বাংলাদেশের ওপর চেপে বসেছিল উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ভিন্নমত প্রকাশ কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন করলেই অনেককে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে এবং গোপনে হত্যা করা হয়েছে। অথচ তৎকালীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এসব গুরুতর অপরাধ অস্বীকার করে গেছে।’

এ সময় রাষ্ট্রপতি বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলী, ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম, ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ গুমের শিকার অসংখ্য মানুষের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তাদের পরিবারের প্রতিটি রাত এখনো বেদনা, অনিশ্চয়তা ও প্রতীক্ষার মধ্যে কাটছে।

আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ অসংখ্য ভিন্নমতাবলম্বী, কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, গৃহবধূ ও সাধারণ নাগরিককে বছরের পর বছর অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে ও আলো-বাতাসহীন ‘আয়নাঘরে’ আটকে রাখা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এমনকি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও গুম করে ভিনদেশে ফেলে আসার রোমহর্ষক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

অনুষ্ঠানে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসা সত্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও ভয়াবহ। কমিশন ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত। রাষ্ট্রক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখতেই দলীয় ও ব্যক্তি স্বার্থে বেছে বেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের গুম ও খুন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গুম প্রতিরোধে বর্তমান সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারকে রক্ষা এবং গুমকে চিরতরে নিষিদ্ধ করতে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গুম ও গণহত্যার বিচারকাজ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এগিয়ে চলছে।

গুমের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। বছরের পর বছর প্রিয়জনের অপেক্ষায় সীমাহীন অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট ও মানসিক যন্ত্রণা বহন করা পরিবারগুলোর মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্বও রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না; মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা থাকবে, তবে আইনের নামে মানবাধিকার ও সুবিচার লঙ্ঘনের সুযোগ থাকবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতার ওপর সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। কোনো মাকে সন্তানের জন্য কিংবা কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।’

গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের পেতেই হবে। দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে আন্তরিকভাবে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব উল্লেখ করে সরকার এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host