স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় গভীর রাতে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় গুপ্ত সংগঠন ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয়রা।
আটককৃত শিবির নেতার নাম ইব্রাহিম সরদার (২৫)। তিনি চৌবাড়ীয়া গ্রামের জামায়াতে ইসলামীর সদস্য লাকু সরদারের ছেলে।
১৫ই মে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চৌবাড়ীয়া গ্রামে প্রবাসী শফিকুল ইসলামের বাড়িতে এই অনৈতিক ঘটনাটি ঘটে।
খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক দুজনকে তাদের হেফাজতে নেয়। এই ঘটনায় এলাকায় তুমুল তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
যদিও আটকের পর জনতার হাত থেকে বাঁচতে ওই শিবির নেতা দাবি করেন তিনি দ্বীনি কাজে এসেছিলেন, জনগণ তাকে ভুল বুঝেছে। যদিও বাড়ির লোকজন ঘটনাটির প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বলে তার এসব আবোল-তাবোল যুক্তি উড়িয়ে দেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, চৌবাড়ীয়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম সরদার জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ দিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তিনি নিজেও সৌদি আরব জামায়াতের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত।
স্বামী বিদেশে থাকার এই সুযোগে প্রতিবেশী গুপ্ত সংগঠন শিবিরের নেতা ইব্রাহিম সরদারের সঙ্গে তার স্ত্রীর গভীর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে ইতিপূর্বে একাধিকবার ইব্রাহিমের পরিবারকে সতর্ক করা হলেও তারা কোনো সুরাহা বা প্রতিকার করেননি।
শুক্রবার রাতে ইব্রাহিম গোপনে প্রবাসীর স্ত্রীর শোবার ঘরে প্রবেশ করলে শফিকুলের ভাই ও ভাবি বিষয়টি টের পেয়ে যান। তারা কৌশলে এবং গোপনে ঘরে ঢুকে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে তারা সৌদি আরবে অবস্থানরত শফিকুলকে ইমো বা হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল দিয়ে পুরো দৃশ্যটি সরাসরি দেখান।
এরপর চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে ওই দুজনকে ঘরের ভেতরে হাতেনাতে বেঁধে রাখা হয় এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
এসময় ইব্রাহিম বারবার দাবি করছিলেন, তিনি দ্বীনি কাজে এসেছিলেন, অন্য কিছু যেন মনে না করেন কেউ। যদিও তার কথা কানে নেননি কেউই। বরং তার লিঙ্গ কর্তনের জোর দাবি তোলেন বাড়ির লোকজন। কিন্তু ইব্রাহিমের পিতা জামায়াতের সদস্য লাকু সরদারের সামাজিক অবস্থানের কারণে ঘটনাটি অতদূর গড়ায়নি।
তবে চাপের মুখে আটক প্রবাসীর স্ত্রী- ছাত্রী সংস্থার কর্মী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, স্বামী দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার কারণে একাকীত্ব ও সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ইব্রাহিমের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এবং তাদের মধ্যে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক সম্পর্ক হয়।
ইব্রাহিমের দলীয় পরিচয় সম্পর্কে বিনোদপুর ইউনিয়ন গুপ্ত সংগঠন শিবিরের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ইব্রাহিম সংগঠনের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থাকলেও সে শিবিরের সিনিয়র কর্মী।
তবে কর্মী হলেও তার এই অযাচারের দায় সংগঠন নেবে না। সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শাস্তির দাবি করেন তিনি।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। বর্তমানে তারা পুলিশি পাহারায় রয়েছে।
এই ঘটনায় প্রবাসীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী জবানবন্দি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।






