স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
ঢাকা, ৫ মে, ২০২৬-ঃ টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাফল্যের অন্যতম প্রধান সহযোগী জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকারের টিকা ক্রয় পদ্ধতিতে আকস্মিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী বলে সমালোচনা করেছেন। এই সিদ্ধান্তের কারণে টিকা সরবরাহে ব্যাপক বিলম্ব ঘটে, যা দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব ও শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রথম আলোকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া বলেন, বাংলাদেশে ১৯৭৯ সাল থেকে চালু হওয়া সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর সাফল্যের পেছনে ইউনিসেফের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে পোলিও নির্মূল, মাতৃ ও নবজাতকের টিটেনাস নির্মূলসহ বিভিন্ন সাফল্য অর্জিত হয়েছে এবং পূর্ণ টিকাদান কভারেজ ১৯৮০ সালের ২ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ৮২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার টিকার ৫০ শতাংশ উন্মুক্ত দরপত্র (ওপেন টেন্ডার) পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ইউনিসেফ ও অন্যান্য অংশীদাররা তখন স্পষ্টভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে, এই প্রক্রিয়ায় টিকা সংগ্রহে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত বিলম্ব হতে পারে। কিন্তু সরকার এই সতর্কতা উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। ফলে টিকা সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়।
স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে কিছু টিকার মজুত শেষ হয়ে যায় এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হয়। অর্থছাড়ে বিলম্ব এবং নতুন ক্রয়প্রক্রিয়ার জটিলতায় টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মার্চ মাসে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি বাতিল করে আবার ইউনিসেফের মাধ্যমে পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জানান, বিলম্ব মোকাবিলায় ইউনিসেফ ২০২৫ সালে প্রায় ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আগাম অর্থায়ন করেছে। তবে সরকারি সহযোগিতার অভাবে পুরোপুরি সংকট এড়ানো সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই টিকা ঘাটতির কারণেই দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়। ইউনূস সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অনেকে অপরিণামদর্শী ও আত্মঘাতী হিসেবে আখ্যায়িত করছেন, যা বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।






