1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শেষ ভরসা ডিম ও কাঁচা পেঁপের দামও চড়া গত এক সপ্তাহে দেশের নদ-নদী থেকে ১৭ মরদেহ উদ্ধার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার বড় বোনের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী বিসিবি নির্বাচন: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন তামিমের খালু শিশু হত্যা-ধর্ষণের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রগতিশীল শিক্ষকদের বিবৃতি দুর্ভোগে তেরখাদার এগার-আমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেশে ১৬ মাসে ৫২২ শিশু হত্যা, ধর্ষণের শিকার ১ হাজার ২২৩ শিশু: আসক হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু এক সপ্তাহে নদী থেকে উদ্ধার ১৭ মরদেহ ভিজিএফের বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার

লোডশেডিংয়ে ঝূঁকির মুখে মোবাইল নেটওয়ার্ক: টাওয়ার সচলের জ্বালানি মিলছেনা

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ৩৮ সময় দর্শন
স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক

জ্বালানি তেলের ঘাটতির পাশাপাশি দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে কোথাও কোথাও দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছেনা। এতে জনজীবনের পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ খাতও বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। ধারাবাহিক টাওয়ার সচল রাখতে জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানা গেছে।

চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল না পাওয়ায় অনেক এলাকায় জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)। সংগঠনটি পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর’ ও ‘ক্রমবর্ধমান সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, সরকারের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন সেবা বজায় রাখা সম্ভব নাও হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে অ্যামটব শনিবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান বরাবর একটি চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি বিভাগ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অপারেটরদের নিয়ে জরুরি সমন্বয় সভার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি-এর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল। এর আগে বৃহস্পতিবার এই ঘাটতি ছিল প্রায় ১ হাজার ৯২৩ মেগাওয়াট।

অ্যামটবের তথ্যমতে, দেশের প্রধান তিন অপারেটরের মোবাইল বেজ ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৫২ হাজার ৪২৫ লিটার ডিজেল এবং ১৯ হাজার ৮৫৯ লিটার অকটেন প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে গ্রামীণফোন-এর প্রয়োজন ২৮ হাজার ৭৯ লিটার ডিজেল ও ৯ হাজার ২৫৪ লিটার অকটেন, রবি আজিয়াটা-র ১৩ হাজার ১৪০ লিটার ডিজেল ও ৫ হাজার ৬১০ লিটার অকটেন এবং বাংলালিংক-এর ১১ হাজার ২০৬ লিটার ডিজেল ও ৪ হাজার ৯৯৫ লিটার অকটেন।

রবি আজিয়াটার এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং মোকাবেলায় জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, যা ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহে অনিয়ম ও পরিবহন জটিলতা নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণকে আরও কঠিন করে তুলছে। অনেক ক্ষেত্রে টেলিকম অবকাঠামোকে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার না দেওয়ায় সেবার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বর্তমানে অপারেটরদের ডেটা সেন্টার ও সুইচিং সেন্টার চালু রাখতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন হচ্ছে। একটি ডেটা সেন্টার চালাতে ঘণ্টায় প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ লিটার ডিজেল লাগে, যা দিনে প্রায় ৪ হাজার লিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। অথচ স্থানীয় জ্বালানি স্টেশনগুলো এই চাহিদা পূরণে সক্ষম নয়।
ডেটা সেন্টার সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ২৭ হাজার ১৯৬ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ১১ হাজার ১৮৪ লিটার, রবির ৯ হাজার ৭৩২ লিটার এবং বাংলালিংকের ৮ হাজার ২০০ লিটার ডিজেল লাগে।

গ্রামীণফোনের এক কর্মকর্তা বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। টেলিকম অবকাঠামোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাংলালিংকের এক কর্মকর্তার মতে, টেলিযোগাযোগকে জরুরি পরিষেবা হিসেবে বিবেচনা করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তা না হলে নেটওয়ার্কের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অ্যামটবের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অপারেটরদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের বড় অংশে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে, যা জরুরি সেবা, আর্থিক লেনদেন, আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
বর্তমানে দেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৮ কোটির বেশি মানুষ মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে এবং প্রায় ১১ কোটি মানুষ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

অ্যামটব জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় গ্রিড বিদ্যুৎ না পাওয়া এবং ব্যাকআপ জ্বালানির ঘাটতির কারণে অপারেটররা মারাত্মক সংকটে পড়েছে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক ঝড় পরিস্থিতি বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।

সংগঠনটি চিঠিতে টেলিকম অবকাঠামোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ, জরুরি জ্বালানি পরিবহন নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ে সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, টেলিযোগাযোগ একটি জরুরি সেবা—এটি যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ কাজ করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host