স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন ভবনে গভীর রাতে পরিকল্পিত চুরির পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে স্টোররুমে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
৩০শে এপ্রিল, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ১লা মে, শুক্রবার ভোরের মধ্যে ঘটা এই ঘটনায় ৮৩টি ল্যাপটপ চুরি ও আগুনে আরও শতাধিক ল্যাপটপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরকারি সম্পদের মোট ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক দুই থেকে তিন কোটি টাকা।
শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে দায়িত্বরত আনসার সদস্য আনোয়ারুল ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর আইয়ুব আলীকে সতর্ক করেন।
পরে অফিস সহকারী এমাম হোসেন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্টোররুমের তালা ভেঙে ও ভবনের পূর্ব পাশের কাচ ভেঙে আগুন নেভানো হয়।
ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখে, রাত ২টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে বোরকা পরা এক অজ্ঞাত ব্যক্তি কৌশলে স্টোররুমের তালা খুলে মোট পাঁচবার ভেতরে ঢোকে এবং মালামাল বাইরে বের করে নিয়ে যায়। শেষবার বের হওয়ার সময় কক্ষে আগুন লাগিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
তাৎক্ষণিক যাচাইয়ে স্টোররুমে সংরক্ষিত ৭৩৫টি ল্যাপটপের মধ্যে ৪৫০টি অক্ষত পাওয়া যায়। ৩৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত, ২৯টি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১৪০টি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
এর বাইরে ৮৩টি ল্যাপটপ চুরি হয়েছে। ল্যাপটপের ব্যাগ, এসিসহ কক্ষের অন্যান্য সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, চুরির আলামত গোপন করতেই পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে।
মিরপুর মডেল থানার একটি সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্তের কাজ চলছে। এটি একক ব্যক্তির কাজ নাকি সংঘবদ্ধ চক্রের — তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শুক্রবার সকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসীও উপস্থিত ছিলেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষ দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী সচিবকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের এই আগুনের পেছনে কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড আছে কি না তা গভীরভাবে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে তাগিদ দেন।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং পুলিশি তদন্তে নতুন কোনো তথ্য উঠে আসে কি না, সেদিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।






