1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শেষ ভরসা ডিম ও কাঁচা পেঁপের দামও চড়া গত এক সপ্তাহে দেশের নদ-নদী থেকে ১৭ মরদেহ উদ্ধার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার বড় বোনের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী বিসিবি নির্বাচন: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন তামিমের খালু শিশু হত্যা-ধর্ষণের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রগতিশীল শিক্ষকদের বিবৃতি দুর্ভোগে তেরখাদার এগার-আমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেশে ১৬ মাসে ৫২২ শিশু হত্যা, ধর্ষণের শিকার ১ হাজার ২২৩ শিশু: আসক হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু এক সপ্তাহে নদী থেকে উদ্ধার ১৭ মরদেহ ভিজিএফের বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার

বাংলাদেশ পেছাল তিন ধাপ: গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ৪১ সময় দর্শন

স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে এবার বাংলাদেশের তিন ধাপ অবনতি হয়েছে। এ বছর বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম, গত বছর এই অবস্থান ছিল ১৪৯তম। ৩রা মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এ বছরও ‘বৈশ্বিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক’ প্রকাশ করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স বা আরএসএফ।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক এই সংগঠনের সূচক অনুযায়ী ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে এবং গত বছরের চেয়ে পিছিয়েছে তিন ধাপ।

আরএসএফএর তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বেই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্ব সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সূচকের ইতিহাসে প্রথমবারের মত অর্ধেকেরও বেশি দেশ ‘কঠিন’ অথবা ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ পর্যায়ে যুক্ত হয়েছে।

সংগঠনটি বলেছে, গত ২৫ বছরের মধ্যে সূচকে অন্তর্ভুক্ত ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের গড় স্কোর এর আগে কখনো এত নিচে নামেনি।

আরএসএফ তাদের বিশ্লেষণে বলছে, ২০০১ সাল থেকে ক্রমেই কড়াকড়ি হয়ে ওঠা আইনি ব্যবস্থার বিস্তার—বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে যুক্ত আইনগুলো ধীরে ধীরে তথ্য জানার অধিকারকে ক্ষয় করে যাচ্ছে। এমনকি গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও এটা ঘটছে।

আমেরিকা মহাদেশে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে; যুক্তরাষ্ট্র সাত ধাপ নেমে গেছে এবং লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশ সহিংসতা ও দমনপীড়নের আরও গভীর চক্রে ঢুকে পড়েছে।

আরএসএফ প্রতিবছর একটি সূচক প্রকাশ করে যেখানে দেখার চেষ্টা করা হয়, সাংবাদিকরা কতটুকু স্বাধীনতা ভোগ করতে পারছেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আইনি কাঠামো, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট এবং নিরাপত্তা– এই পাঁচটি দিক থেকে প্রতিটি দেশ বা অঞ্চলের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বাস্তব পরিস্থিতি ও বিভিন্ন জটিলতা উঠে আসে বলে আরএসএফ দাবি করে।

প্রতিটি সূচকের জন্য শূন্য থেকে ১০০ পর্যন্ত একটি সহায়ক স্কোর গণনা করা হয়।

যেসব দেশ ৮৫ থেকে ১০০ পয়েন্ট পায় তারা ‘ভালো’ (সবুজ); ৭০ থেকে ৮৫ পয়েন্ট ‘সন্তোষজনক’ (হলুদ); ৫৫ থেকে ৭০ পয়েন্ট ‘সমস্যাযুক্ত’ (হালকা কমলা); ৪০ থেকে ৫৫ পয়েন্ট ‘কঠিন’ (গাঢ় কমলা) এবং শূন্য থেকে ৪০ পয়েন্ট যারা যায় তাদের ‘খুব গুরুতর’ (গাঢ় লাল) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এবছর বাংলাদেশের স্কোর দেখানো হয়েছে ৩৩.০৫। গতবছর যা ছিল ৩৩.৭১।

গতবছর ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪৯ তম অবস্থানে ছিল, যেখানে এবার তিন ধাপ পিছিয়ে ১৫২তম অবস্থানে রয়েছে দেশটি।

যেসব দেশের পয়েন্ট বেশি সেগুলো তালিকার শুরুতে এবং যেসব দেশের পয়েন্ট কম, অর্থাৎ সাংবাদিকরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছেন সেসব দেশ তালিকার নিচের দিকে থাকে।

এবছর তালিকার ১ নম্বর অবস্থনে রয়েছে নরওয়ে এবং ১৮০টি নম্বরে আছে ইরিত্রিয়া। নরওয়ের স্কোর ৯২.৭২ এবং ইরিত্রিয়ার ১০.২৪।

তালিকায় বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত ৩১.৯৬ স্কোর নিয়ে ১৫৭ তম স্থানে এবং পাকিস্তান ৩২.৬১ স্কোর নিয়ে ১৫৩ তম স্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে যা বলা হয়েছে

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থা নিয়েও বিশ্লেষণ রয়েছে। সেখানে বলা আছে, বাংলাদেশের ১৬ কোটি ৯০ লাখ মানুষের মধ্যে এক পঞ্চমাংশেরও বেশি দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে এবং তাদের কাছে মূলধারার গণমাধ্যমে প্রবেশাধিকার খুব সীমিত। দেশটিতে খবর ও তথ্যের প্রচারে ইন্টারনেটের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে।

আরএসএফ বলছে, রাষ্ট্রীয় দুটি প্রধান সম্প্রচারমাধ্যম, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত জাতীয় সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) কার্যক্রমে কোনো সম্পাদকীয় স্বাধীনতা নেই; এগুলো কার্যত সরকারি প্রচারযন্ত্র হিসেবে কাজ করে।

তারা জানিয়েছে, বেসরকারি খাতের গণমাধ্যমের মধ্যে রয়েছে প্রায় তিন হাজার মুদ্রিত গণমাধ্যম, দৈনিক ও সাময়িকী, ৩০টি রেডিও স্টেশন- যার মধ্যে কিছু কমিউনিটি রেডিও আছে। ৩০টি টেলিভিশন চ্যানেল এবং কয়েক শ’ সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইটও আছে।

“জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভি, সময় টিভি ও একাত্তর টিভি আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল”, তবে তারা বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা থেকে বিরত ছিল বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

বেসরকারি মালিকানাধীন শীর্ষস্থানীয় অধিকাংশ গণমাধ্যমের মালিকানা রয়েছে অল্প কয়েকজন বড় ব্যবসায়ীর হাতে, যারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্থানের সময় উঠে এসেছেন। তারা গণমাধ্যমকে প্রভাব বিস্তার ও মুনাফার হাতিয়ার হিসেবে দেখেন এবং সে কারণে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা রক্ষার চেয়ে সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেন।

এছাড়া অনেক সংবাদপত্র এখনো সরকারি বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া অর্থ এবং আমদানিকৃত নিউজপ্রিন্টের ওপর নির্ভরশীল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবিধানে বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আরএসএফ বলছে, এই ‘দ্বিধা’ গণমাধ্যমেও প্রতিফলিত হয়, যেখানে ধর্মসংক্রান্ত বিষয় প্রায় নিষিদ্ধ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত এবং “মূলধারার গণমাধ্যমে বাংলাদেশে বসবাসকারী এক কোটি ধর্মীয় সংখ্যালঘুর প্রসঙ্গ প্রায় কখনোই আলোচিত হয় না”।

গত এক দশকে “বাংলাদেশে উগ্র ইসলামপন্থি গোষ্ঠীগুলো ভয়াবহ সহিংস অভিযান চালিয়েছে, যার ফলে সাংবাদিক হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। এখন এসব গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ধর্মনিরপেক্ষতা, ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলা সাংবাদিকদের শনাক্ত ও হয়রানি করছে”- বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার বলছে, বাংলাদেশে পুলিশি সহিংসতা, রাজনৈতিক কর্মীদের হামলা এবং জিহাদি, অপরাধী গোষ্ঠীর পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঝুঁকির মুখে থাকা সাংবাদিকরা শেখ হাসিনার শাসনামলে বেশি অসুরক্ষিত ছিলেন; কারণ ওই সময় এসব সহিংসতার ঘটনা বিনা বিচারে থেকে গেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও সাংবাদিক ও ব্লগারদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন ও সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রায়ই ব্যবহার করা হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, শেখ হাসিনার পতনের পর শুরু হওয়া রাজনৈতিক শুদ্ধি অভিযানের সময় ১৩০ জনেরও বেশি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলাও করা হয়। বিশেষ করে ‘হত্যা’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে এদের মধ্যে পাঁচজন আটক হন।

এছাড়া সাংবাদিকতা “পেশাটি এখনো মূলত পুরুষশাসিত, আর নারী সাংবাদিকরা গভীরভাবে শেকড় গেঁড়ে থাকা হয়রানির সংস্কৃতির মুখোমুখি হন এবং নিজেদের অধিকার প্রকাশ্যে রক্ষার চেষ্টা করলে অনলাইন বিদ্বেষমূলক অভিযানের শিকার হন”- বা হয়েছে আরএসএফের প্রতিবেদনে।

বিবিসি বাংলা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host