1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শেষ ভরসা ডিম ও কাঁচা পেঁপের দামও চড়া গত এক সপ্তাহে দেশের নদ-নদী থেকে ১৭ মরদেহ উদ্ধার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার বড় বোনের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী বিসিবি নির্বাচন: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন তামিমের খালু শিশু হত্যা-ধর্ষণের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রগতিশীল শিক্ষকদের বিবৃতি দুর্ভোগে তেরখাদার এগার-আমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেশে ১৬ মাসে ৫২২ শিশু হত্যা, ধর্ষণের শিকার ১ হাজার ২২৩ শিশু: আসক হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু এক সপ্তাহে নদী থেকে উদ্ধার ১৭ মরদেহ ভিজিএফের বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার

হারাম-হালাল যাচাইয়ের সুযোগ থাকছে না: মাংস আমদানিতে মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে মানতে হবে মার্কিন তরিকা

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৭ সময় দর্শন

স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির অধীনে বাংলাদেশকে পোল্ট্রি পণ্য, মাংস, ডেইরি ও অন্যান্য প্রাণীজাত খাদ্যসামগ্রী আমদানি করতে হবে। কিন্তু এসব পণ্যের হালাল সংজ্ঞা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সার্বভৌম কোন এখতিয়ার না থাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

চুক্তির শর্ত অনুসারে, বাংলাদেশকে USDA (United States Department of Agriculture) এবং FSIS (Food Safety and Inspection Service)-এর সার্টিফিকেট ও পরিদর্শনকে স্বীকৃতি দিতে হবে। বাংলাদেশের নিজস্ব ল্যাবরেটরি টেস্টিংয়ের অধিকার সীমিত থাকবে।

যদি হালাল সার্টিফিকেশন প্রয়োজন হয়, তাহলে মার্কিন হালাল সার্টিফায়ারদের (যারা মার্কিন মানদণ্ড পূরণ করে) সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হবে, বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা BSTI-এর অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা যাবে না।

বাংলাদেশের প্রচলিত হালাল সংজ্ঞা বনাম মার্কিন হালাল সংজ্ঞা

বাংলাদেশে হালাল বলতে সাধারণত ইসলামিক শরিয়াহ-এর কঠোর নিয়ম বোঝানো হয়। এর মধ্যে অন্যতম শর্ত হলো:

  • জবাইকারী অবশ্যই মুসলমান হতে হবে
  • আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই করতে হবে
  • পশুকে পূর্ণ সচেতন অবস্থায় (স্টানিং ছাড়া) জবাই করতে হবে
  • রক্ত সম্পূর্ণ বের করে ফেলতে হবে
  • ক্রস-কনট্যামিনেশন এড়াতে পুরো প্রক্রিয়া শরিয়াহ অনুসারে হতে হবে

অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হালাল সার্টিফিকেশন বিভিন্ন বেসরকারি হালাল সংস্থা (যেমন IFANCA, HFSAA ইত্যাদি) দিয়ে হয়। এখানে অনেক ক্ষেত্রে মেকানিক্যাল স্লটার ইলেক্ট্রিক মেশিন/করাত দিয়ে জবাই অনুমোদিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে স্টানিং বা অজ্ঞান করে প্রাণী জবাই করা হয়। জবাইকারী মুসলমান না হলেও তত্ত্বাবধানে থাকলে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। সেই তত্ত্বাবধান আবার বেশ অনেকটা দূর থেকে করতে হয়, যেখান থেকে আল্লাহর নাম নিয়ে প্রাণী জবাই করা হলো কিনা, সেটা বোঝার কোন উপায় থাকে না।

মার্কিন হালাল সংজ্ঞায় মূলত USDA-এর ফুড সেফটি ও হাইজিনের ওপর বেশী নজর দেয়া হয়, যাতে ধর্মীয় অনুশাসনের চেয়ে বাণিজ্যিক সুবিধার দিকটা বেশি।

বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মেকানিক্যাল স্লটার বা স্টানিং করা মাংসকে পূর্ণাঙ্গ হালাল বলে মনে করেন না। এছাড়া ল্যাবরেটরিতে উৎপাদিত মাংসও হালাল বলে বিবেচিত হয় না।

গুড মিটের তিনজন শরিয়া বিশেষজ্ঞের মতে, ল্যাবে তৈরি মাংস মূলত মাংসের কোষ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। এই কোষগুলো যদি ইসলামিক আইন অনুসারে জবাই করা পশু থেকে সংগ্রহ করা হয়; তাহলে এই কোষ থেকে তৈরি মাংস হালাল হবে।

ফলে মার্কিন সংজ্ঞায়িত “হালাল” পণ্য বাংলাদেশের মুসলমানের কাছে ধর্মীয়ভাবে সন্দেহজনক বা অগ্রহণযোগ্য হতে পারে।

৯২% মুসলমানের ধর্মভ্রষ্টতার ঝুঁকি

বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৯১-৯২% মুসলমান, সংখ্যার হিসাব অনুসারে প্রায় ১৫ থেক ১৬ কোটি। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। যদি বাজারে মার্কিন “হালাল” লেবেলযুক্ত পোল্ট্রি ও মাংস ব্যাপকভাবে প্রবেশ করে এবং স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ না থাকে, তাহলে অনেক মুসলমান অনিচ্ছাকৃতভাবে শরিয়াহ অনুসারে সন্দেহজনক খাদ্য গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচরণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংঘাত ও বিভ্রান্তি তৈরি হবে এই ক্ষেত্রে।

ধর্মভীরু মানুষের মধ্যে “ধর্মভ্রষ্টতা” বা “ইমানের ক্ষতি”র আশঙ্কা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির অসহায় জিম্মি বাংলাদেশ

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তি বাংলাদেশকে জ্বালানি, খাদ্য ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল করে তুলছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও ধর্মীয় অনুশাসনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সার্বভৌমত্ব খর্ব হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ সরকারের হাতে মার্কিন পণ্যের ল্যাব টেস্ট ও হালাল যাচাইয়ের পূর্ণ এখতিয়ার না থাকায় দেশের ৯২% মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অধিকার ও খাদ্য নিরাপত্তা উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

একদিকে বাণিজ্যিক সুবিধা, অন্যদিকে ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার মধ্যে সংঘাত তৈরি হচ্ছে।

অনেকে প্রশ্ন তুলছেন — বাণিজ্য চুক্তির নামে কি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্বের বিনিময় হচ্ছে? সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host