1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শেষ ভরসা ডিম ও কাঁচা পেঁপের দামও চড়া গত এক সপ্তাহে দেশের নদ-নদী থেকে ১৭ মরদেহ উদ্ধার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার বড় বোনের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী বিসিবি নির্বাচন: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন তামিমের খালু শিশু হত্যা-ধর্ষণের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রগতিশীল শিক্ষকদের বিবৃতি দুর্ভোগে তেরখাদার এগার-আমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেশে ১৬ মাসে ৫২২ শিশু হত্যা, ধর্ষণের শিকার ১ হাজার ২২৩ শিশু: আসক হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু এক সপ্তাহে নদী থেকে উদ্ধার ১৭ মরদেহ ভিজিএফের বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার

সিন্ডিকেটে বিপর্যস্ত শ্রমরপ্তানি বাজার

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬৬ সময় দর্শন

স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রভাব, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ অনিয়মের কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিদেশে গেছেন ৮২ হাজার ৫৬১ জন কর্মী, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬০ হাজার ৭৯০ জন বা ৪২ দশমিক ৪০ শতাংশ কম। গত বছর এ সময়ে বিদেশে গিয়েছিলেন এক লাখ ৪৩ হাজার ৩৫১ জন।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের মার্চ-এপ্রিল সময়ে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় দ্বিগুণ ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অভিবাসন প্রবাহে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ধাক্কা লেগেছে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েতের মতো প্রধান গন্তব্যগুলোতে কর্মী পাঠানো ব্যাপকভাবে কমেছে। গত বছরের একই সময়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন এক লাখ দুই হাজার ১০৪ জন, চলতি বছরে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৪৪ হাজার ৮৭৬-এ, কমেছে ৫৬ শতাংশ।
কাতারে কর্মসংস্থান কমেছে ৬৯ শতাংশ, আর কুয়েতে কমেছে ২৭ শতাংশ। তবে তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যায় হলেও জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মী যাওয়া কিছুটা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে, যা সরাসরি শ্রমবাজারে প্রতিফলিত হয়েছে।

সৌদি নির্ভরতা ও ঝুঁকি

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিদেশগামী কর্মীদের ৬৬ শতাংশের বেশি গেছেন সৌদি আরবে। উপসাগরীয় দেশগুলো মিলিয়ে মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৭৮ শতাংশই নির্ভর করছে এই অঞ্চলের ওপর। ফলে ওই অঞ্চলে কোনো অস্থিরতা দেখা দিলে পুরো অভিবাসন খাতেই বড় ধাক্কা লাগে।

বিকল্প বাজারেও স্থবিরতা

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারগুলোতেও তেমন অগ্রগতি নেই। মালয়েশিয়া, ওমান ও বাহরাইনের বাজার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। সিঙ্গাপুরে কর্মী পাঠানো কমেছে, আর জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উচ্চ আয়ের দেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগও কার্যকর হচ্ছে না।
ইউরোপের রোমানিয়া, পোল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে ভিসা জটিলতা ও কর্মীদের অনিয়মের কারণে বাজার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কর্মী এসব দেশে গিয়ে অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়ায় নিয়োগকারীরা বাংলাদেশি শ্রমিক নিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন।

ভিসা জটিলতা ও নতুন সংকট

ইউরোপে কাজের জন্য ভারতের নয়াদিল্লিতে গিয়ে ভিসা নিতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভারতীয় ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে যাওয়ায় কর্মীরা সেখানে যেতে পারছেন না। ফলে ইউরোপমুখী অভিবাসন আরও সংকুচিত হয়েছে।
একই সঙ্গে কিরগিজস্তান হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথও প্রায় বন্ধ। অন্যদিকে, রাশিয়ায় কাজের প্রলোভন দেখিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগে সেই বাজারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও সিন্ডিকেট

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পেছনে রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত খরচ আদায় এবং অনিয়ম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। সরকার নির্ধারিত খরচের কয়েকগুণ বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে হাজারো কর্মী সব প্রক্রিয়া শেষ করেও বিদেশ যেতে পারেননি।
এছাড়া জাল সনদ, ভুয়া অভিজ্ঞতা এবং বিদেশে গিয়ে চাকরি না করে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যার প্রভাব পড়ছে নতুন কর্মসংস্থানের ওপর।

সরকারের উদ্যোগ ও আশাবাদ

সরকার বলছে, বন্ধ শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালু করতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কর্মী নিয়োগ বাড়বে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে।

পাশাপাশি নতুন শ্রমবাজার খোঁজা, ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া ও অন্যান্য পুরোনো বাজার পুনরায় চালুর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ২৮৭ জন, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ৩ হাজার ৬৪২ জন। অর্থাৎ বৈদেশিক কর্মসংস্থানে সামগ্রিকভাবে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু যুদ্ধ নয়—বাজার বৈচিত্র্যের অভাব, দক্ষতার ঘাটতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং অনিয়ম—সব মিলিয়েই বাংলাদেশের অভিবাসন বড় পতনের মুখোমুখি

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host